‘বিয়ে দিয়ে পুত্রবধূ আনতে চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত হারালাম ছেলেকে!’ লোহাগড় দুর্গের সেই খুনের নেপথ্যে সিয়ার ব্লু-প্রিন্ট

পুনে: ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। লোহাগড় দুর্গে ভ্রমণের জেদ থেকে শুরু করে আচমকা খাদের অতল— গোটা ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দায়ের করা এফআইআর-এ অভিযুক্ত হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন মৃতের বাবা বিশাল দেবীচাঁদ আগরওয়াল।
কী কী অভিযোগ এফআইআর-এ?
- অস্বাভাবিক আচরণ: কেতনের পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই সিয়ার আচরণে বড় পরিবর্তন এসেছিল। তুচ্ছ বিষয়ে রাগারাগি ও অকারণে ঝগড়া করা তাঁর নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
- লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার জেদ: ৪ জুন সিয়া লোহাগড় দুর্গে যেতে চাইলেও কেতন রাজি হননি। এরপর ১৭ জুন সিয়া সরাসরি কেতনের মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে জন্মদিনের বাহানায় লোহাগড় যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড জোরাজুরি করেন। শেষ পর্যন্ত হবু পুত্রবধূর জেদের কাছে হার মানেন কেতনের মা।
- খুনের ব্লু-প্রিন্ট: কেতনের পরিবারের দাবি, সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কেতন। সেই কারণেই এই খুনের পরিকল্পনা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারের সদস্যদের দাবি, সেখানে দুর্ঘটনাবশত পা পিছলে পড়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
- ফোন আসক্তি: সিয়া সবসময় ফোনে ব্যস্ত থাকতেন এবং প্রায়শই তাঁর ‘বন্ধু’ চেতন চৌধুরীর নাম মুখে আনতেন বলে অভিযোগ।
বিলাসবহুল বিয়ে ও শোকের আবহে পরিবার
উদ্যয়পুরের এক বিলাসবহুল রিসর্টে ৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা খরচ করে কেতন ও সিয়ার রাজকীয় বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বালিতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সব স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন। শোকাতুর মা রাখী আগরওয়াল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি একজন মা, সিয়ারও মা আছেন। তবুও আমি চাই সিয়া এবং চেতন—দু’জনেরই মৃত্যুদণ্ড হোক।”
এদিকে, পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড়েতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মোমবাতি মিছিল করেছেন কেতনের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।