“বিধানসভার ক্যান্টিনের দায়িত্বও কি ইসকনকে দেবেন?” মিড-ডে মিল বিতর্কে বিজেপিকে তোপ মহুয়ার

“বিধানসভার ক্যান্টিনের দায়িত্বও কি ইসকনকে দেবেন?” মিড-ডে মিল বিতর্কে বিজেপিকে তোপ মহুয়ার

কলকাতা: মিড-ডে মিলের মেনু থেকে ডিম বাদ দিয়ে রাজমা ও সয়াবিন চালুর সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। কলকাতা পুরসভা এলাকার কিছু স্কুলে ইসকনকে রান্নার দায়িত্ব দেওয়া এবং মেনুতে ডিমের বদলে নিরামিষ খাবার চালু করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

কী বললেন মহুয়া?

সাংসদের অভিযোগ, বাংলার ওপর জোর করে নিরামিষ সংস্কৃতির ছাঁচ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। মহুয়ার কথায়, “বাংলার শিশুরা সয়াবিন পছন্দ করে না। তাছাড়া উত্তর ভারতের মতো এ রাজ্যে রাজমা খাওয়ার চল নেই। আমি নিজে দিল্লি যাওয়ার আগে পর্যন্ত জানতাম না রাজমা কী!” এর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই বলে দাবি করে তিনি তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেন, “সরকার যদি রাজমা খাওয়াতেই এত আগ্রহী হয়, তবে বিধানসভার এমএলএ ক্যান্টিনের দায়িত্বও ইসকনকে দেওয়া হোক।”

তর্ক ও বিতর্ক:

রাজ্যের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত কলকাতা পুরসভার কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে ইসকনের মাধ্যমে নিরামিষ খাবার সরবরাহের ঘোষণা করেন। এর ফলে পনির, ডাল ও দুগ্ধজাত খাবার থাকলেও ডিম বাদ পড়ছে মেনু থেকে।

  • বিরোধীদের আপত্তি: ডিমের অভাবে পড়ুয়াদের উপস্থিতি কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্কুল শিক্ষকদের বড় অংশ। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, সরকারি পুষ্টি প্রকল্পে স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিকে মান্যতা দেওয়া উচিত।
  • সরকারের সাফাই: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কারো ওপর কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস চাপানো হচ্ছে না, লক্ষ্য কেবল উন্নত ও পরিচ্ছন্ন পুষ্টি নিশ্চিত করা। শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের দাবি, পাতে ডিম থাকল কি না তা বড় কথা নয়, পুষ্টির পরিমাপ হওয়া উচিত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে।
  • ইসকনের বক্তব্য: ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, এই বিতর্ক বিভ্রান্তিকর। ডাল ও সয়াবিন থেকেও প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া সম্ভব। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসকন বাংলার গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্যই অনুসরণ করে, তাই নিরামিষ খাবার বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী নয়।

ডিম বনাম রাজমার এই লড়াইয়ে এখন সরগরম বাংলার শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহল। এ বিষয়ে আপনার কি মনে হয়, বাংলার মিড-ডে মিলে ডিম কি অপরিহার্য?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *