রামমন্দিরের দানভাণ্ডারে ‘ডাকাতি’! বফর্স কেলেঙ্কারির ছায়া মোদী-যোগী প্রশাসনে?

রামমন্দিরের দানভাণ্ডারে ‘ডাকাতি’! বফর্স কেলেঙ্কারির ছায়া মোদী-যোগী প্রশাসনে?

অযোধ্যা: রামমন্দির উদ্বোধনের ঘোর কাটার আগেই অযোধ্যায় ভক্তদের দানের অর্থ ও অলঙ্কার চুরির ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোল তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি চরমে। বিরোধীরা এই অর্থ তছরুপকে ‘ডাকাতি’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নৈতিক পদত্যাগ দাবি করেছেন।

মূল অভিযোগ:

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, মন্দিরের অর্থভাণ্ডারে এক বড়সড় সংঘটিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রেখে আড়ালে কীভাবে দিনের পর দিন দানের টাকা ও অলঙ্কার হাতানো হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠদের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর তিনি ইস্তফা দিলেও, আসল চক্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

বফর্স-এর সঙ্গে তুলনা:

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা বিজেপির জন্য ‘বফর্স কেলেঙ্কারির’ মতো রামধাক্কা হয়ে দেখা দিতে পারে। চার দশক আগে ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়, রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়’ স্লোগান যেভাবে সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, রামমন্দিরের এই তছরুপের ঘটনাতেও কোটি কোটি হিন্দুর বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠছে। বিরোধীদের মতে, ভক্তদের দানে তৈরি মন্দিরের এই অর্থ তছরুপ কোনো সাধারণ চুরি নয়, এটি সরাসরি নৈতিক অধঃপতন।

মোদী-যোগী প্রশাসনের দায়:

মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে সরাসরি যোগী প্রশাসন এবং প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন ট্রাস্টের সদস্যরা রয়েছেন। তাই এই ঘটনার দায় কোনোভাবেই মোদী-যোগী সরকার এড়াতে পারে না। উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই ঘটনা বিজেপিকে ভিতর থেকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিরোধীদের রণকৌশল:

অখিলেশ যাদব থেকে শুরু করে কংগ্রেস—বিরোধীরা এখন এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে। রামমন্দিরের জমি ও অর্থের সুরক্ষায় গাফিলতিকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে এই প্রথম হিন্দু ভাবাবেগ ও নৈতিকতার নিরিখে কোনঠাসা করার সুযোগ পেয়েছে বিরোধী শিবির। এখন দেখার, এই ‘রামধাক্কা’ সামলে বিজেপি কীভাবে আগামী নির্বাচনে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *