একুশে জুলাই কার? শহিদ স্মরণ নিয়ে কালীঘাটকে চ্যালেঞ্জ ঋতব্রত শিবিরের!

একুশে জুলাই কার? শহিদ স্মরণ নিয়ে কালীঘাটকে চ্যালেঞ্জ ঋতব্রত শিবিরের!

কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীকের লড়াইয়ের পর এবার ‘একুশে জুলাই’ কার—তা নিয়ে শুরু হলো নতুন সংঘাত। প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মতলার দখল নিতে ময়দানে নেমেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী তৃণমূল। দুই পক্ষের দাবি-পাল্টা দাবিতে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি।

শহিদ স্মরণ নিয়ে সুর চড়ালেন বিদ্রোহীরা

শনিবার তপসিয়ার এক বৈঠকে ঋতব্রত শিবিরের প্রবীণ বিধায়ক আখরুজ্জামান কালীঘাটকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন তৃণমূলের শহিদ সমাবেশে সাধারণ মানুষের চেয়ে তারকাদের ভিড় বেশি ছিল, যার ফলে শহিদ পরিবাররা তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু পাননি। আখরুজ্জামানের কথায়, “নায়ক-নায়িকাদের ভিড়ে শহিদরা হারিয়ে যেত। এবার আমরা আসল তৃণমূল হিসেবে শহিদ পরিবারদের যথাযথ শ্রদ্ধা জানাব।” এই বৈঠকে ৫১ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর ও ৪ জন বিদ্রোহী বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।

ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই সভার লক্ষ্য

একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের জন্য ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের ঐতিহাসিক জায়গাটিতেই সভা করার জন্য মরিয়া ঋতব্রত শিবির। যদিও প্রশাসনিক জটিলতার কথা মাথায় রেখে আখরুজ্জামান জানিয়েছেন, তাঁরা প্রশাসনের কাছে অনুমতি চাইবেন। জায়গা না পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে পরে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনড় কালীঘাট, পাল্টা হুঁশিয়ারি মহুয়ার

বিদ্রোহীদের এই একের পর এক চ্যালেঞ্জে বিচলিত নয় মমতাপন্থী তৃণমূল। উল্টে তারাও ধর্মতলার পুরনো চত্বরেই সভা করার জন্য কলকাতা পুলিশকে অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা শিবিরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সমাবেশের ব্যাপারে তাঁরা অনড়। তাঁর কথায়, “২১ জুলাই সভা হবেই। প্রয়োজন হলে জিপের ওপর দাঁড়িয়ে ভাষণ দেবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের আইনি জটিলতা এবং দুই শিবিরের এই অনড় মনোভাবে একুশে জুলাইয়ের দিনটি বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *