‘হুল বিদ্রোহই বিকশিত ভারতের সোপান, স্বীকৃতি দিয়েছেন অটলজিই’, মুকুটমণিপুরে হুঙ্কার শুভেন্দুর

‘হুল বিদ্রোহই বিকশিত ভারতের সোপান, স্বীকৃতি দিয়েছেন অটলজিই’, মুকুটমণিপুরে হুঙ্কার শুভেন্দুর

বাঁকুড়া: হুল দিবস উপলক্ষে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে রাজ্য সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের রাজ্য স্তরের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরসা মুন্ডা ও সিধু-কানুর মতো অমর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আদিবাসী সমাজের অধিকার ও ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ জোর দিলেন।

হুল বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট

মুকুটমণিপুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের স্বাধীন ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল জনজাতিদের এই ঐতিহাসিক শোষণবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই। জল, জমি ও জঙ্গলের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই লড়াই আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক।” প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সভায় উপস্থিত আদিবাসী সমাজের গুণীজনদের এদিন বিশেষ সংবর্ধনা দেন তিনি।

আদিবাসী উন্নয়নে অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবদান

এদিনের বক্তৃতায় জনজাতি সমাজের উন্নয়নে বিজেপি সরকারের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর আবিষ্কৃত ‘অলচিকি’ লিপিতে লেখা সাঁওতালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছিলেন অটলজি। এমনকি, জনজাতিদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফসল ‘ঝাড়খণ্ড’ রাজ্যটিও তাঁর আমলেই গঠিত হয়েছিল।”

উন্নয়নের খতিয়ান ও রাজনৈতিক বার্তা

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিজেপি সরকার জনজাতি সমাজকে কেবল মূল স্রোতেই আনেনি, বরং দেশের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন:

  • দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে জনজাতি কন্যা দ্রৌপদী মুর্মুর আসীন হওয়া।
  • ছত্তীসগড়ে বিষ্ণু দেব সাই এবং ওড়িশায় মোহনচরণ মাঝির মতো জনজাতি জননেতাদের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া।
  • রাজ্য মন্ত্রিসভাতেও খুদিরাম টুডু, জুয়েল মুর্মু এবং বিশাল লামাদের মতো আদিবাসী প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের কথা।

পরিশেষে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে আদিবাসী সমাজকে দেশের প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী খুদিরাম টুডু, দিবাকর ঘরামি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতসহ একাধিক জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *