অনুগামী গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টাতেই চাপে হুমায়ুন, শুভেন্দুর ‘অ্যাকশন’ নিয়ে বিস্ফোরক বিধায়ক

মুর্শিদাবাদ: বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগরে বড়সড় পুলিশি অ্যাকশন। বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সভার তিন প্রধান আয়োজককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই ব্যাকফুটে মুর্শিদাবাদের দাপুটে রাজনীতিবিদ হুমায়ুন কবীর। আইনি জালে জড়িয়ে পড়া হুমায়ুন একদিকে যেমন সুর নরম করেছেন, অন্যদিকে ফের নাম না করে আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে।
“আমি গুন্ডা নই!”
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “পুলিশমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আস্ফালন করছেন, গুন্ডা দমন আইন পাস করেছেন। গুন্ডাদের দমন করলে আমার আপত্তি নেই, কারণ আমি কোথাও গুন্ডাগিরি করি না। কিন্তু সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম হলে মানুষই তার বিচার করবে।” তাঁর কথায়, সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হয়, অন্যায় ও জুলুমের মোকাবিলা করেই তিনি রাজনীতি করবেন।
থানায় তলব ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা
বিধায়ক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, আইনি জটিলতা ক্রমেই বাড়ছে। তাঁকে একের পর এক থানায় তলব করা হচ্ছে। হুমায়ুন জানান, ৩ জুলাই শক্তিপুর থানা এবং ৪ জুলাই রেজিনগর থানায় তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি সরাসরি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই দাবি করেছেন। পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে আগামী ৪ তারিখ দলের রাজ্য কমিটির জরুরি বৈঠকও ডেকেছেন তিনি।
‘এক দেশ এক ভোট’ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এবার জাতীয় রাজনীতির কার্ড খেললেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার আর বেশিদিন টিকবে না। তিনি বলেন, “সংসদে খুব শীঘ্রই ‘এক দেশ এক ভোট’ বিল আসতে চলেছে। তার মানে ২০২৯ সালে লোকসভা ভোটের সঙ্গেই দেশের সব বিধানসভা ভোট হবে। অর্থাৎ এই সরকারের মেয়াদ আর মাত্র তিন বছর। তিন বছরের জন্যই সরকার চলছে, তাই এখন এত আস্ফালন!”
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে পুলিশের সমন, অন্যদিকে চাপের মুখে থাকা হুমায়ুন কবীর এই তত্ত্ব খাড়া করে মূলত নিজের রাজনৈতিক জমি বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করছেন। এখন ৩ ও ৪ জুলাই হাজিরা ঘিরে কী সিদ্ধান্ত নেন বিধায়ক, সেটাই দেখার বিষয়।