হাসপাতালে ভর্তি জেসমিন ভাসিন! কী এই ‘টার্মিনাল আইলাইটিস’, কেন এত বিপজ্জনক?
কলকাতা: দুবাইয়ে জন্মদিনের আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল বিভীষিকায়। জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী জেসমিন ভাসিন হঠাৎই তীব্র পেট ব্যথায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি ‘টার্মিনাল আইলাইটিস’ (Terminal Ileitis) নামক অন্ত্রের এক জটিল প্রদাহ বা ইনফেকশনে আক্রান্ত। জেসমিনের এই অসুস্থতার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে এই রোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
টার্মিনাল আইলাইটিস আসলে কী?
আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রের একেবারে শেষ অংশটিকে বলা হয় ‘টার্মিনাল আইলিয়াম’। এটি বৃহদান্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই অংশটি শরীরে ভিটামিন বি১২ এবং পিত্ত অ্যাসিড শোষণের প্রধান মাধ্যম। যখন এই অংশে মারাত্মক প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হয়, তখন তাকেই বলা হয় টার্মিনাল আইলাইটিস।
কেন হয় এই রোগ?
এটি যে সবসময় দীর্ঘমেয়াদী অন্ত্রের রোগ (যেমন ক্রোনস ডিজ়িজ়) থেকেই হয়, তা কিন্তু নয়। এর নেপথ্যে থাকতে পারে আরও বেশ কিছু কারণ:
- ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস: সালমোনেল্লা বা ইয়ারসিনিয়ার মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
- অন্ত্রের যক্ষ্মা (TB): ভারতের মতো দেশে অন্ত্রের টিবি অত্যন্ত সাধারণ, যা প্রায়ই এই সমস্যার কারণ হয়।
- ব্যথানাশক ওষুধের অপব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘসময় NSAIDs (ব্যথানাশক) সেবন।
- অন্যান্য: অন্ত্রে রক্ত সঞ্চালনের অভাব কিংবা শরীরের অটোইমিউন ডিসঅর্ডার।
সাবধান হবেন কখন? (উপসর্গ)
যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
- পেটের ডানদিকের নিচের দিকে তীব্র যন্ত্রণা।
- ঘন ঘন ডায়েরিয়া।
- প্রচণ্ড শারীরিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা।
- জ্বর এবং মলের সঙ্গে রক্ত পড়া।
বিপজ্জনক কি?
চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে অন্ত্রে আলসার বা ক্ষত তৈরি হতে পারে। এমনকি অন্ত্র সরু হয়ে যাওয়া বা ফুটো হয়ে যাওয়ার মতো জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যার জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।
অন্ত্র ভালো রাখার টিপস:
- ওমেগা-৩: সামুদ্রিক মাছ, বাদাম ও তিসির বীজ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
- সহজপাচ্য খাবার: ফাইবার এড়িয়ে খোসা ছাড়ানো সেদ্ধ লাউ, গাজর বা কুমড়ো খান।
- প্রোটিন: ডিমের সাদা অংশ, ছোট মাছ এবং লিন প্রোটিন (চামড়া ছাড়া মুরগি) ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।
- প্রোবায়োটিক: নিয়মিত ঘরের পাতা টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
এই ধরনের উপসর্গ অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।