হোমস্টে-তে তরুণীর রহস্যমৃত্যু, প্রেমিকের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ পরিবারের
কর্নাটক: রাজ্যের চিক্কাবল্লাপুর জেলার নন্দী হিলস সংলগ্ন একটি হোমস্টে থেকে এক তরুণীর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃত তরুণী পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট ছিলেন এবং বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। এই ঘটনায় নিহত তরুণীর পরিবার তাঁর প্রেমিক মহম্মদ সাঁজিত আলির বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ ও প্রতারণার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে।
কী ঘটেছিল?
জানা গেছে, বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা ওই তরুণী পরিবারের অমতেই কেরলের বাসিন্দা তাঁর প্রেমিক সাঁজিত আলির সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন। সম্প্রতি তাঁরা নন্দী হিলসের কাছে একটি হোমস্টে-তে যান। নির্ধারিত সময়ের পরেও ঘর থেকে সাড়া না মেলায় হোমস্টে কর্মীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তরুণীর নিথর দেহ এবং সাঁজিত আলিকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দেখতে পান। সাঁজিতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা:
মৃতার মায়ের অভিযোগ, সাঁজিত দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত। এমনকী তরুণীর গোপনাঙ্গেও আঘাত করা হতো বলে অভিযোগ। মায়ের দাবি, মেয়েকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে সম্পর্কের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে রয়েছে ‘লাভ জিহাদ’ ষড়যন্ত্র।
তদন্তে পুলিশ:
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে এই অঘটন ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন:
- ঘটনাস্থল থেকে কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
- ওই প্রেমিক যুগলের বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক সংক্রান্ত মামলা ছিল। মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেতে তরুণীকে একসময় পুনর্বাসন কেন্দ্রেও রাখা হয়েছিল।
- হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাঁজিতের জ্ঞান ফিরলে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, সাঁজিতের বয়ানই এই রহস্য সমাধানে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
এখনও পর্যন্ত তরুণীর পরিবারের অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।