বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী বদল: ৮১ হাজার স্কুল হবে বিশ্বমানের, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী বদল: ৮১ হাজার স্কুল হবে বিশ্বমানের, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। সল্টলেকের বিকাশ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) বাস্তবায়নের বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান ঘোষণা ও সংস্কারসমূহ:

  • বিশ্বমানের বিদ্যালয়: রাজ্যের ৮১ হাজার বিদ্যালয়কে বিশ্বমানের করে তোলা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ থেকে মুক্ত করে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ফেরানোর কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • মিড ডে মিলের আধুনিকীকরণ: রান্নার ক্ষেত্রে কাঠ বা কয়লার উনুনের পরিবর্তে এখন থেকে প্রতিটি সরকারি স্কুলে আধুনিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবে।
  • পরিকাঠামোগত উন্নয়ন: প্রতিটি স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য আধুনিক ওয়াটার পিউরিফায়ার বা অ্যাকোয়া গার্ড বসানো হবে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে ও পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারে প্রতিটি বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এছাড়া শৌচাগার ও স্কুল চত্বরের পরিচ্ছন্নতায় কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
  • জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP): দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত এনইপি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে সেমিস্টার ও ক্রেডিট সিস্টেম চালু করে বাংলার শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আরও দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ডিজিটাল রূপান্তর: গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার ও ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে পড়ুয়াদের স্কুলছুট হওয়ার প্রবণতা রোধ করা যায়।
  • দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ: আগের সরকারের আমলের নিয়োগ দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কলঙ্ক মুছতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মেধাতালিকার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে শিক্ষক নিয়োগ ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক কড়াকড়ি: শিক্ষা দফতরের খোলনলচে বদলে ফেলতে প্রতিটি জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (DI) কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে ফাইলবন্দি কাজে সীমাবদ্ধ না থেকে আধিকারিকদের সরাসরি স্কুল পরিদর্শন করতে হবে। স্কুলের পঠনপাঠন ও পরিকাঠামোর লাইভ ডেটা সরাসরি বিকাশ ভবনের সেন্ট্রাল ড্যাশবোর্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *