বাতাসের বিপরীতে ওড়ে পতাকা, পুরীর জগন্নাথ ধামের ৫ অলৌকিক রহস্য জেনে নিন

সনাতন হিন্দু ধর্মে পুরীর জগন্নাথ ধাম মর্ত্যের ‘বৈকুণ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে এমন কিছু রহস্য, যার কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা আজও মেলেনি। আগামী ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার রথযাত্রার প্রাক্কালে জেনে নিন শ্রীক্ষেত্রের ৫টি বিস্ময়কর রহস্য।
১. আসামাপ্ত বিগ্রহের পেছনের কাহিনি
জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ পাথর বা ধাতু নয়, তৈরি হয়েছে নিম কাঠে। বিগ্রহের হাত-পা নেই এবং অবয়ব আসামাপ্ত। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, ছদ্মবেশে মূর্তি তৈরির সময় দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা শর্ত দিয়েছিলেন যে দরজা খোলা যাবে না। কিন্তু উৎকণ্ঠায় সময় ফুরনোর আগেই রানী গুণ্ডিচা দরজা খুলে ফেললে শিল্পী অদৃশ্য হয়ে যান। সেই থেকেই আসামাপ্ত রূপেই দেবতা এখানে পূজিত হন।
২. বাতাসের বিপরীতে ওড়ে পতাকা
পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মন্দিরের চূড়ার ধ্বজা সবসময় বাতাসের বিপরীত দিকে ওড়ে। ৪৫ তলা সমান উঁচু মন্দিরের চূড়ায় কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই প্রতিদিন এক পূজারি পতাকা পরিবর্তন করেন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, একদিনও এই রীতি বন্ধ হলে ১৮ বছরের জন্য মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।
৩. প্রাকৃতিক ‘নো-ফ্লাই জোন’
জগন্নাথ মন্দিরের ওপর দিয়ে কোনো পাখি উড়তে দেখা যায় না। এমনকি মন্দিরের ওপর দিয়ে কোনো বিমান বা হেলিকপ্টারও চলাচল করে না, যা একে কার্যত একটি প্রাকৃতিক ‘নো-ফ্লাই জোন’-এ পরিণত করেছে।
৪. নীলচক্রের জাদু ও সমুদ্রের গর্জন
শহরের যে প্রান্ত থেকেই নীলচক্রের দিকে তাকান না কেন, মনে হবে এর সম্মুখভাগ আপনার দিকেই মুখ করে আছে। এছাড়া মন্দিরের সিংহদ্বারে পা রাখলে সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন হঠাৎই অদৃশ্য হয়ে যায়, যা এক পরম বিস্ময়।
৫. অদ্ভুত রান্নার প্রক্রিয়া
মন্দিরের বিশাল রান্নাঘরে মাটির উনুনের ওপর পর পর ৭টি পাত্র রাখা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আগুনের সরাসরি সংস্পর্শে থাকা পাত্রটিতে নয়, বরং সবার ওপরে থাকা সপ্তম পাত্রটি সবার আগে রান্না হয়! এছাড়া এখানে লক্ষাধিক ভক্ত এলেও প্রসাদের কখনো অভাব হয় না, আবার মন্দির বন্ধের সময় এক কণাও অন্ন অবশিষ্ট থাকে না।