এমবিএ স্কলারশিপে কোটি টাকার জালিয়াতি: পড়ুয়াদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে লোপাট সরকারি টাকা, কাঠগড়ায় কলেজ ও ব্যাঙ্ক

ভোপালে এমবিএ পড়ুয়াদের সরকারি স্কলারশিপের টাকা আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি চক্রের পর্দা ফাঁস করেছে সিবিআই। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের অক্টোবরের মধ্যে সংঘটিত এই ঘটনায় প্রায় ১ কোটি টাকার (৯৯.৪৮ লক্ষ) আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: তদন্তে জানা গেছে, ভোপালের ‘অ্যাকাডেমি অফ ম্যানেজমেন্ট’ কলেজের পাঁচ আধিকারিক এবং ইউকো ব্যাঙ্কের হাবিবগঞ্জ শাখার তৎকালীন সিনিয়র ম্যানেজার মিলে এই প্রতারণা চক্রটি চালিয়েছিলেন। ইউকো ব্যাঙ্কের জোনাল হেড লোকেশ কুমার ১১৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গুরুতর অনিয়ম লক্ষ্য করে অভিযোগ জানালে সিবিআই তদন্ত শুরু হয়।
প্রতারণার কৌশল (Modus Operandi): এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পড়ুয়াদের নাম ও জাল সই ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। প্রতারকদের কারসাজির প্রধান দিকগুলো ছিল:
- মোবাইল নম্বর জালিয়াতি: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোতে পড়ুয়াদের মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেদের বা সহযোগীদের নম্বর লিঙ্ক করে রাখত।
- ওটিপি-র নিয়ন্ত্রণ: মোবাইল নম্বর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরকারি টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার সাথে সাথে ওটিপি (OTP) পেয়ে যেত তারা।
- ডেবিট কার্ডের অপব্যবহার: রাম সিং নামে কলেজের এক কর্মী পড়ুয়াদের অজান্তেই সমস্ত এটিএম কার্ড সংগ্রহ করে রাখতেন এবং টাকা ঢোকার সাথে সাথে তা তুলে নিতেন।
- কেওয়াইসি (KYC) জালিয়াতি: ভুয়া নথিপত্র এবং জাল শিক্ষাগত শংসাপত্র জমা দিয়ে ব্যাঙ্কের বাধ্যতামূলক যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে ফাঁকি দেওয়া হয়েছিল।
অভিযুক্ত যারা: সিবিআই এই ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ইউকো ব্যাঙ্কের তৎকালীন ম্যানেজার প্রেমা বর্মা এবং কলেজ ডিরেক্টর বিনয় মালহোত্রা, অধ্যাপক আদিত্য মালহোত্রা, দুই সহকারী অধ্যাপক মনোজ জৈন ও ভিনেশ মেশরাম এবং কর্মী রাম সিং বর্মা।
বর্তমানে সিবিআই-এর অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ এই ঘটনার তদন্ত করছে। প্রতারণা, জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও, সিবিআই তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করছে। এই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যাঙ্ক কর্মী বা আরও কোনো অ্যাকাউন্ট জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।