Atomic Energy: পরমাণু শক্তিতেই ভরসা! ২০৭০-এর ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যপূরণে নতুন রণকৌশল ভারতের

ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে (নেট-জিরো) নামিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, তা অর্জনে পরমাণু শক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। সাম্প্রতিক এক সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট মেটাতে নতুন এক সুদূরপ্রসারী কৌশলের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
সংসদীয় প্যানেলের পর্যালোচনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন মেধা বিশ্রাম কুলকার্নি জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিটির লক্ষ্য হলো, একদিকে যেমন পারমাণবিক চুল্লিগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো, অন্যদিকে সৌরশক্তির পাশাপাশি পরমাণু শক্তিকে আধুনিক ভারতের প্রধান জ্বালানি উৎস হিসেবে গড়ে তোলা।
জ্বালানি নিরাপত্তায় দুই স্তম্ভ শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে: ১. দেশীয় খনিজ: ইউরেনিয়ামের ঘাটতি মেটাতে ভারতের বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডারকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২. আন্তর্জাতিক চুক্তি: ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে অস্ট্রেলিয়ার মতো সহযোগী দেশ থেকে ইউরেনিয়াম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভারতের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে।
গবেষণায় জোর ও আত্মনির্ভর ভারত দেশের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য গবেষণায় (R&D) বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। সংসদীয় কমিটির মতে, ভারত এখন পারমাণবিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার পথে। মেধা কুলকার্নির কথায়, এই বৈঠকটি দেশের জ্বালানি সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হতে চলেছে। যদিও গোপনীয়তার খাতিরে সব বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে কমিটির সদস্যরা এই পরিকল্পনার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং স্পষ্ট রূপরেখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
ভারত এখন দূষণকারী জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎপাদনে জোর দিচ্ছে, যা ২০৭০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে দেশকে অনেকটা এগিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।