ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, দীর্ঘ ১৫ বছর পর স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে উত্তপ্ত হবে বিধানসভা

দীর্ঘ ১৫ বছরের এক অলিখিত প্রথা ভেঙে নতুন নজির গড়তে চলেছে রাজ্য বিধানসভা। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট মূলত ‘গিলোটিন’-এর মাধ্যমে পাশ হয়ে যেত, ফলে বিধানসভায় তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ মিলত না। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকার সেই রীতি ভেঙে এবার আলোচনার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী ১৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব। এই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র দফতরসহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনার সূচি নির্ধারিত হয়েছে। তবে মূল আকর্ষণ থাকছে ২২ জুলাই পেশ হতে যাওয়া স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট। এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট নিয়ে বিধানসভায় টানা তিন ঘণ্টা বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পাবেন বিধায়করা।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ জমানায় এই বাজেট প্রায় কখনোই আলোচনার টেবিলে ওঠেনি; সময় বাঁচাতে বা কৌশলগত কারণেই তা সরাসরি গিলোটিনে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। সেই প্রথা ভেঙে বিজেপি সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন গিলোটিন প্রক্রিয়ার কারণে স্বরাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো না। কিন্তু এবার বিরোধীরা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারকে চেপে ধরার সুযোগ পাবে। স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই বাজেটের উত্তর দেবেন। বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বিরোধী বিধায়কদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে শুভেন্দু অধিকারী কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল।
১৭ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলা এই অধিবেশন শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে সরকার স্বচ্ছতার বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীরা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ব্যর্থতার অভিযোগে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে, শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘অগ্নিপরীক্ষা’ এবং বিরোধী শিবিরের আক্রমণের জেরে বিধানসভার অধিবেশন যে বেশ সরগরম থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।