প্রতিদিন বন্ধ হচ্ছে ১৩টি স্কুল! বাড়ছে ছাত্রসংখ্যা, বাংলায় কি বদলাচ্ছে শিক্ষার ছবি? নয়া রিপোর্টে চাঞ্চল্য

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যখন বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল বন্ধ হওয়ার খবর শিরোনামে আসছে, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের UDISE+ (২০২৫-২৬) রিপোর্ট এক অন্য বাস্তবতাকে তুলে ধরছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলায় গত এক বছরে স্কুলের সংখ্যা ০.৬ শতাংশ কমলেও, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির হার ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, এখন কম সংখ্যক স্কুলেই ভিড় বাড়ছে পড়ুয়াদের।
পরিসংখ্যানের চোখে মূল বিষয়গুলি:
- বাড়তি চাপ: প্রতিটি স্কুলে গড় পড়ুয়ার সংখ্যা ১৮২ থেকে বেড়ে ১৯০-এ দাঁড়িয়েছে।
- জাতীয় চিত্র: গোটা দেশেই একই ধারা অব্যাহত। দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩টি করে স্কুল বন্ধ হচ্ছে, অথচ সামগ্রিক ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২.৯ লক্ষ।
- পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান: মেঘালয় এবং তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাতেও স্কুলের সংখ্যা হ্রাসের বিপরীতে ভর্তির হার বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
- বিপরীতমুখী রাজ্য: দেশের ১১টি রাজ্য (যেমন- দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান) আবার উল্টো পরিস্থিতির সম্মুখীন, যেখানে স্কুলের সংখ্যা বাড়লেও ছাত্র ভর্তির হার কমেছে।
এই পরিবর্তনের নেপথ্যে বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে: ১. স্কুল একীভূতকরণ: কম পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলোকে কাছাকাছি বড় স্কুলের সাথে মিশিয়ে দেওয়া। ২. সরকারি স্কুলমুখী প্রবণতা: সরকারি পরিকাঠামোর মান কিছুটা উন্নত হওয়ায় অভিভাবকদের আস্থা বৃদ্ধি। ৩. জনসংখ্যা ও স্থানান্তর: নির্দিষ্ট এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্বের পরিবর্তন।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
স্কুলের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া সরাসরি শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত এবং পরিকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল স্কুলের সংখ্যা নয়, প্রতিটি স্কুল কতজন পড়ুয়ার গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে, সেটাই এখন প্রশাসনের কাছে আসল চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এই পরিস্থিতি সামলাতে ভবিষ্যতে কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।