নিষিদ্ধ বিহারে মদের স্রোত, সরকারি নিষেধাজ্ঞার দশ বছরে কেন ব্যর্থ নীতীশের স্বপ্ন?

২০১৬ সালে বিহারে মদ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে নীতীশ কুমার নেশামুক্ত রাজ্যের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু এক দশক পর সরকারি নিষেধাজ্ঞার চিত্রটি যেন উল্টো ফলই দিচ্ছে। ‘ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে’-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মদ্যপানের হার উল্টে ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনিক কড়াকড়ির আড়ালে আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে চলছে চোরাচালান। সরকারি রাজস্বের বড় অংশ হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি, বিষমদ পান করে গত কয়েক বছরে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শুধু মদ নয়, মদের আকালকে পুঁজি করে রাজ্যে এখন গাঁজা ও আফিমের মতো মরণনেশা আরও ডালপালা বিস্তার করেছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নজরদারির অভাবই এই ব্যর্থতার মূল কারণ। দোকানের লাইসেন্স বাতিল হলেও নেশাখোরদের কাছে মদের জোগান বন্ধ হয়নি, বরং তা আরও দুর্গম ও ভেজাল হয়েছে। নেশামুক্তির আবেগে চালিত এই সিদ্ধান্ত সমাজের অন্ধকার দিকগুলোকে আরও প্রকট করে তুলেছে। আইন প্রয়োগের চেয়ে সচেতনতা ও বিকল্প ব্যবস্থার দিকে নজর না দেওয়ায় বিহারের ‘ড্রাই স্টেট’ তকমাটি এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। নীতি নির্ধারণের এই বড় ভুল ও প্রশাসনিক শিথিলতায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে প্রতিনিয়ত, যার মাশুল দিতে হচ্ছে গোটা রাজ্যকে।