‘যতই ঝড়-জল হোক, একুশে জুলাইয়ের অনুষ্ঠান হবেই’, সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ মমতার

‘যতই ঝড়-জল হোক, একুশে জুলাইয়ের অনুষ্ঠান হবেই’, সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ মমতার

আগামীকাল একুশে জুলাই। তার আগের দিন, সোমবার সন্ধ্যায় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে নির্ধারিত সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে কার্যত রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

খবরের মূল হাইলাইটস:

  • পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ: সভাস্থলে কোনও পুলিশি কর্ডন বা নিরাপত্তা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। মিডিয়ার জন্য ন্যূনতম সৌজন্য না দেখানোয় উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।
  • অনুমতি নিয়ে রাজনীতি: রেড রোডে ৭ দিন ধরে যান চলাচল বন্ধ রেখে যোগাভ্যাসের প্যান্ডেল হতে পারলে, ৪০ বছর ধরে চলে আসা একুশে জুলাইয়ের সভার অনুমতি কেন দেওয়া হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেত্রী।
  • বাধা দেওয়ার অভিযোগ: মমতার দাবি, তৃণমূলের কর্মীদের আসার জন্য ট্রেনের টিকিট দেওয়া হয়নি, থাকার জায়গা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকী, আগের দিন সভাস্থলে লোডশেডিংও করে দেওয়া হয়।
  • দিল্লির প্রসঙ্গ: ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর দিল্লি পুলিশের অত্যাচার এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশন জোর করে তুলে দেওয়ার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।

‘এটা কোন ধরনের রাজনীতি?’ প্রশ্ন মমতার এবারের একুশে জুলাইয়ের সভার অনুমতি পাওয়া নিয়ে শুরু থেকেই আইনি জটিলতা ছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “কোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও স্টেজ সাজানোর কাজে দেরি করিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক দলের মিটিং বিভিন্ন মোড়ে হচ্ছে, তাদের পারমিশন কে দেয়? শুধু তৃণমূলকে অনুমতি দেওয়া যায় না! সব বারণ করা সত্ত্বেও কর্মীরা প্রাণের টানে ছুটে এসেছেন।”

হাই কোর্টের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি: উল্লেখ্য, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার চিরাচরিত অনুমতি এবার পায়নি তৃণমূল। রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্ট বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সভার শর্তসাপেক্ষ অনুমতি দেয়। রাজ্যের আপত্তির পর দীর্ঘ বাদানুবাদ শেষে আদালত জানায়:

  • সর্বোচ্চ ৩ হাজার কর্মী নিয়ে এই সভা করা যাবে।
  • দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত সভার সময়সীমা।
  • রাস্তার একটি দিক সচল রাখতে হবে এবং ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রশাসনিক অসহযোগিতা সত্ত্বেও একুশের এই শহিদ স্মরণ কর্মসূচি সফল করতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *