‘দুষ্কৃতীরা হুমকি দিয়ে গেছে…’, একুশের মঞ্চ পাহারায় কুণাল-দোলা! নিশানায় কে?

‘দুষ্কৃতীরা হুমকি দিয়ে গেছে…’, একুশের মঞ্চ পাহারায় কুণাল-দোলা! নিশানায় কে?

একুশে জুলাইয়ের সভার ঠিক আগের রাতে চরম উত্তেজনা তিলোত্তমায়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তারামণ্ডলের সামনে তৈরি কালীঘাট তৃণমূলের সভামঞ্চে গভীর রাতে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, সারারাত সভাস্থল পাহারায় থাকলেন খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকে মঞ্চ পাহারায় বসে থাকতে দেখা যায় কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনদের।

খবরের মূল হাইলাইটস:

  • হামলার অভিযোগ: রাত ১০টা নাগাদ ক্যাথিড্রাল রোডের সভামঞ্চে তাণ্ডব চালায় একদল দুষ্কৃতী। ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার-পোস্টার, কাটা হয় সাউন্ড সিস্টেমের তার এবং কর্মীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
  • রাস্তায় মমতা-অভিষেক: খবর পেয়েই রাতেই সভাস্থলে ছুটে যান মমতা ও অভিষেক। প্রায় সারারাত সেখানেই বসে থাকেন তাঁরা।
  • নিশানায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী: এই হামলার নেপথ্যে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্রয় রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ কুণাল ঘোষ সকাল থেকে সভামঞ্চের সামনে বসে থাকা কুণাল ঘোষ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে হওয়া একটি আবেগঘন কর্মসূচিতে দুষ্কৃতীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে মঞ্চ ভাঙচুরের সুযোগ পায়? তাঁর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা হুমকি দিয়ে গিয়েছে যে সভা শেষের পর সরঞ্জাম কীভাবে খোলা হয়, তা তারা দেখে নেবে। কুণাল আরও বলেন, “বিরোধীরা আজও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সবচেয়ে বেশি ভয় পায়, এই হামলাই তার প্রমাণ।”

‘রোজ রাস্তায় বেরব, দেখব কীভাবে আটকান!’ ঘটনার পর বর্তমান শাসকদল ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, একুশের সভা ভেস্তে দিতে চক্রান্ত চলছে এবং শহিদ পরিবারদের পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, “দু’মাসে ওরা গোটা বাংলাকে কবজা করেছে। ৩৫ বছরে বামফ্রন্টকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২১ জুলাইয়ের পর রোজ রাস্তায় বেরব, দেখব আপনারা কীভাবে আটকান!” পাশাপাশি, তাঁর দলে থাকা ‘ছুপারুস্তম’দের নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, অতীতে কেউ দুষ্টুমি করলে তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন, আর এখন সেই বিশ্বাসঘাতকদের তিনি চিনতে পারছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *