ইরানে টানা ৯ রাত হামলা! ফুরোচ্ছে মিসাইল, মাঝপথেই থমকে যাবে আমেরিকার যুদ্ধ?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত এবার চরম আকার ধারণ করেছে। টানা ন’দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন ঠিকানায় তুমুল বোমাবর্ষণ করছে মার্কিন সেনা। কিন্তু এই আগ্রাসনের মাঝেই উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। খোদ মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক দাবি করেছেন, লাগাতার হামলার জেরে আমেরিকার অত্যাধুনিক মিসাইল ও এয়ার ডিফেন্সের মজুত দ্রুত তলানিতে এসে ঠেকছে!
কী কারণে এই চরম সতর্কতা?
- অস্ত্রের আকাল: ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহলের খবর, একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো পর্যাপ্ত মিসাইল বর্তমানে আমেরিকার হাতে নেই।
- মরণফাঁদের আশঙ্কা: আকাশপথের প্রতিরক্ষা এবং দূরপাল্লার মিসাইলের এই ঘাটতি আমেরিকার জন্য মরণফাঁদ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই মার্কিন আধিকারিক।
- অন্ধকারে হোয়াইট হাউস? চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, যুদ্ধের ময়দানে প্রকৃত অর্থে ঠিক কতটা অস্ত্র মজুত রয়েছে, তা নিয়ে খোদ হোয়াইট হাউসও পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নয় বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে আমেরিকা
জর্ডন এবং ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় সেনামৃত্যুর বদলা নিতেই এই মরিয়া আক্রমণ শানাচ্ছে আমেরিকা। ইরানকে চাপে ফেলতে ইতিমধ্যেই ব্রিটেন ও জার্মানি থেকে F-16 এবং F-35 যুদ্ধবিমান-সহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। রবিবার রাতভর ইরানের মিসাইল লঞ্চ প্যাড, ড্রোন কেন্দ্র ও উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিসংখ্যান
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই যুদ্ধে প্যাট্রিয়ট, টমাহক এবং থাড-এর মতো অত্যাধুনিক মিসাইলের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। যা পরিস্থিতি, তাতে এই মিসাইলের ভাণ্ডার ফের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আমেরিকার বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যাবে।
কবে স্বাভাবিক হবে আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডার? একনজরে পরিসংখ্যান:
| মিসাইলের নাম | মজুত স্বাভাবিক হতে আনুমানিক সময় |
| টমাহক (Tomahawk) | ২০৩০ থেকে ২০৩১ সাল |
| প্যাট্রিয়ট (Patriot) | ২০২৯ সালের মাঝামাঝি |
| থাড (THAAD) | ২০২৯ সালের শেষভাগ |
| জেএসএসএম (JASSM) | ২০২৭ সালের মাঝামাঝি |
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, গোলাবারুদের এই বিশাল ঘাটতি কি আমেরিকার রণকৌশলে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে? এখন সেদিকেই নজর গোটা বিশ্বের।