যোগীর রাজ্যে বড় খেলা? লোকসভার পর এবার বিধানসভাতেও রাহুল-অখিলেশ মেগা প্ল্যান!

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে অভাবনীয় সাফল্যের পর, এবার বিধানসভাতেও জোট অটুট রাখতে তৎপর কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি (SP)। জোটের সমীকরণ ও আসন রফা নিয়ে সম্প্রতি দিল্লিতে সংসদ ভবনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মেগা বৈঠক করলেন অখিলেশ যাদব।
কী নিয়ে আলোচনা হল এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে?
- আসন ভাগাভাগিতে দড়ি টানাটানি: কংগ্রেসের অন্দরে দাবি উঠেছে বিধানসভার ৪০৩টি আসনের মধ্যে অন্তত ‘অর্ধেক’ আসনে লড়ার। তবে সপা নেতাদের দাবি, রাজ্যে কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি ততটা মজবুত নয়। তাই এত আসন ছাড়া সম্ভব নয়।
- ভোটের অঙ্ক কী বলছে: ২০২৪ সালের লোকসভায় সপা ৩৭টি এবং কংগ্রেস ৬টি আসন পেয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, একটি লোকসভার অধীনে ৫টি বিধানসভা কেন্দ্র থাকে। সেই অঙ্কে অখিলেশ শিবিরের মতে, কংগ্রেসকে ৮৫টির বেশি আসন দেওয়া দলের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।
- ইতিহাসের কাঁটা: ২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস ১০৫টি আসনে লড়েছিল। এবারও তারা সমান আসনের দাবি জানাচ্ছে, যা নিয়ে আপত্তি রয়েছে অখিলেশের দলের।
- অন্যান্য ইস্যু: শুধু আসন রফাই নয়, এই বৈঠকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাম মন্দিরে নৈবেদ্য চুরির মতো সাম্প্রতিক বিতর্কিত ইস্যু নিয়েও দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া বার্তা
আসন বণ্টন নিয়ে দুই দলের নিচুতলার নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্যে যে ভিন্ন মত ও কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে, তা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। অখিলেশ ও রাহুলের এই সরাসরি বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যই হলো একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া— প্রকাশ্য বাদানুবাদ এড়িয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হবে।
লোকসভার সফল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মডেল উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটে কতটা ম্যাজিক দেখাতে পারবে এবং যোগীরাজ্যে এই জোট বিজেপির মোকাবিলায় কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের।