২১-এর রিপোর্ট লুকিয়ে শহিদদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’! বিধানসভায় মমতাকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

২১-এর রিপোর্ট লুকিয়ে শহিদদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’! বিধানসভায় মমতাকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিচালনার ঘটনা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট পেশ করে তাঁর অভিযোগ, স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্যই এই ঘটনাকে ব্যবহার করেছে তৃণমূল। পাশাপাশি, ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়েও চরম বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

খবরের মূল হাইলাইটস:

  • রিপোর্ট গোপন করার অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ২০২৪ সালেই রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেনি এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলিও কার্যকর করেনি।
  • ক্ষতিপূরণ নিয়ে ‘প্রতারণা’: কমিশনের সুপারিশ ছিল, শহিদ পরিবারগুলিকে ২৫ লক্ষ ও আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হোক। কিন্তু শুভেন্দুর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার নিহতদের পরিবারকে মাত্র ২ লক্ষ এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দায় সেরেছিল।
  • মমতাকে তলব নয় কেন? শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, এই আন্দোলনের মূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেও, তাঁকে কেন কখনও কমিশনের তরফে তলব করা হয়নি? অথচ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা তৎকালীন মুখ্যসচিব মনীশ গুপ্তের মতো ৪৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
  • ফাইল গায়েব ও অভিযুক্তকে আড়াল: তৎকালীন মুখ্যসচিব মনীশ গুপ্তকে পরবর্তীতে নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছিলেন মমতা। কমিশনের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে শুভেন্দু জানান, এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত হয়নি এবং অভিযুক্তদের বাঁচাতে বহু সরকারি নথি ও ফাইল গায়েব করা হয়েছিল।

ক্ষতিপূরণ ও নতুন এফআইআর-এর সুযোগ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দাবি মেনে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরিবারগুলি চাইলে ১৯৯৩ সালের ওই গুলিচালনার ঘটনার প্রেক্ষিতে নতুন করে এফআইআর দায়ের করার সুযোগও দেওয়া হবে।

একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগে বিধানসভায় এই রিপোর্ট পেশ হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের তরজা এক নতুন মাত্রা পেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *