সরকারি কাজে বাংলা বাধ্যতামূলক! রাজ্যের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত শান্তিনিকেতন

সরকারি কাজে বাংলা বাধ্যতামূলক! রাজ্যের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত শান্তিনিকেতন

প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং সরকারি স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহারকে আরও বিস্তৃত ও বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মাতৃভাষার প্রসারে নবান্নের এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা শান্তিনিকেতন। প্রবীণ আশ্রমিক থেকে শুরু করে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শুধু ভাষার মর্যাদাই রক্ষা করবে না, সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে।

কী বলছেন বিশিষ্টজনেরা?

  • সুপ্রিয় ঠাকুর (প্রবীণ আশ্রমিক ও ঠাকুর পরিবারের সদস্য): রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ভাষার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করাও সমান জরুরি।
  • সবুজকলি সেন (প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, বিশ্বভারতী): তিনি জানান, মাতৃভাষায় প্রশাসনিক কাজ হলে তা সাধারণ মানুষের বুঝতে অনেক সুবিধা হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যেও বাংলা চর্চার প্রবণতা বাড়বে।
  • আবু তালেব খান (উপাচার্য, বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়): তাঁর মতে, সিভিল সার্ভিস (IAS, IPS) থেকে শুরু করে রাজ্যের অন্যান্য সরকারি চাকরিতে বাংলা জানা এখন বাধ্যতামূলক। তাই সরকারি কাজে বাংলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে রাজ্যের পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।

ভাষার শুদ্ধতা ও মান বজায় রাখার বার্তা

সরকারি নথিপত্র বা চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বাংলার ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন শিক্ষাবিদরা। তাঁরা জানিয়েছেন, কেবল ব্যবহার বাড়ালেই হবে না, বাংলা ভাষার শুদ্ধতা, নিয়মিত চর্চা ও মান বজায় রাখার দিকেও সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

প্রবীণ আশ্রমিক সুব্রত সেন মজুমদারের কথায়, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে এক অনন্য সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছে। যে মাতৃভাষা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গোটা বিশ্বকে চিনিয়েছেন, আগামী দিনে সেই ভাষার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *