নিট বিতর্কে উত্তাল দিল্লি! প্রধানমন্ত্রীর দুয়ারে রাহুলের ধর্না, মন্ত্রীর হস্তক্ষেপেও কাটল না জট
July 21, 20268:01 pm

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মঙ্গলবার তীব্র উত্তেজনা ছড়াল রাজধানী দিল্লিতে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে শামিল হলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তবে তাতেও কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- মোদীর বাসভবন ঘেরাও: গতকাল ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সংসদ অভিযানে পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা করে মঙ্গলবার রাস্তায় নামে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের এই ধর্নায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, “ছাত্রদের ওপর আক্রমণ মানে প্রত্যেক ভারতীয় পরিবারের ওপর আক্রমণ।”
- মন্ত্রীর সঙ্গে রাহুলের বৈঠক: বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেন। তবে সূত্রের খবর, এই আলোচনায় কোনো জট কাটেনি বা সমাধান সূত্র বেরোয়নি।
- আটক শীর্ষ নেতৃত্ব: বিক্ষোভ সামাল দিতে আসরে নামে দিল্লি পুলিশ। এদিন ছিল মল্লিকার্জুন খাড়্গের ৮৪ তম জন্মদিন, আর এই দিনেই তাঁকে আটক করা হয়। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী-সহ আরও একাধিক কংগ্রেস নেতাকে আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
- কংগ্রেসের দাবি: কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা জানান, লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধীদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। কংগ্রেসের স্পষ্ট দাবি, নিট কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে দাঁড়িয়ে জবাবদিহি করতে হবে।
- আহতদের পাশে নেতৃত্ব: মঙ্গলবার সকালেই পুলিশি ধরপাকড়ে আহত পড়ুয়াদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কেসি বেণুগোপাল। অন্যদিকে, আহত পড়ুয়া ও পুলিশকর্মীদের দেখতে আরএমএল (RML) হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও।
সরকারকে তোপ বিরোধীদের: কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার নিট পেপার ফাঁসের বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাহুল গান্ধীর সাফ কথা, “প্রধানমন্ত্রী মোদী ভাবছেন তিনি কোনও উত্তর না দিয়েই পার পেয়ে যাবেন, কিন্তু এবার অন্তত সেটা হতে দেওয়া হবে না। ভারতের ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠস্বরকে কিছুতেই উপেক্ষা করা যাবে না।”