ফের ‘দিল্লি চলো’ কৃষকদের! ভারত-আমেরিকা চুক্তির জেরে উত্তাল রাজধানী, জারি ১৬৩ ধারা

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) প্রতিবাদে ফের একবার রাজপথে নামলেন দেশের অন্নদাতারা। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’-র ব্যানারে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশে পা বাড়াতেই নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি সীমানায় কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- কেন এই আন্দোলন?কৃষকদের আশঙ্কা, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের কৃষি খাত ও দুগ্ধশিল্পে বড়সড় ধস নামবে। বাজারে বিদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশ ঘটলে দেশীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলি চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।
- দিল্লি সীমানায় কড়া পাহারা:কৃষকদের আটকাতে সীমানায় একাধিক জায়গায় ভারী ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
- সংঘাত নয়, চাই আলোচনা:কৃষক নেতা সরওয়ান সিং পান্ধের স্পষ্ট জানিয়েছেন, কৃষকরা দিল্লি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেও তাঁরা জোর করে ব্যারিকেড ভাঙবেন না। সংঘাতের পথে না হেঁটে আলোচনার টেবিলেই তাঁরা নিজেদের দাবি তুলে ধরতে চান।
- বরফ গলার ইঙ্গিত:হরিয়ানা সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আটক কৃষক নেতাদের মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষকদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কী বলছে কেন্দ্র?
কৃষকদের এই আশঙ্কার মাঝেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন যে এই চুক্তিতে ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্নদাতাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না।
প্রেক্ষাপট:
২০২০-২০২১ সালে তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরোধিতায় দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে দিল্লির সীমানায় ঐতিহাসিক আন্দোলন করেছিলেন দেশের কৃষকরা। বাধ্য হয়ে সেই আইন প্রত্যাহার করেছিল কেন্দ্র। এবার এই নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মোদী সরকার কৃষকদের ক্ষোভ কীভাবে সামাল দেয়, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।