একুশের মঞ্চে মমতার সঙ্গে বচসা! রাগে মাঝপথেই সভা ছাড়লেন তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদ?

একুশের মঞ্চে মমতার সঙ্গে বচসা! রাগে মাঝপথেই সভা ছাড়লেন তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদ?

বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মঙ্গলবার কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের মেগা মঞ্চ সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন ঘটনার। খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য মনকষাকষি এবং বচসায় রীতিমতো উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। নেত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘ বক্তৃতা দেওয়া এবং তারপর হঠাৎ করে মঞ্চ ছেড়ে তাঁর বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

ঠিক কী ঘটেছিল একুশের মঞ্চে?

  • দীর্ঘ ভাষণে বাদ হেভিওয়েটরা: দলীয় সূত্রে খবর, বক্তার তালিকা দীর্ঘ থাকায় শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নির্দেশ ছিল বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত উড়িয়ে দিয়ে টানা সাড়ে বাইশ মিনিট ধরে ভাষণ দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলস্বরূপ, সময়ের অভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়তে হয় মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষদের মতো হেভিওয়েট সাংসদদের।
  • নেত্রীর ইশারা অগ্রাহ্য ও বচসা: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, কল্যাণের বক্তৃতা চলাকালীন মঞ্চে প্রবেশ করেন মমতা। তিনি ইশারায় ভাষণ শেষ করতে বললেও কল্যাণ তা শোনেননি। এরপর ভাষণ শেষ হলে মমতা তাঁকে রীতিমতো ধমক দেন। প্রকাশ্যেই দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল কথা কাটাকাটি। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সটান নিজের কালীঘাটের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। দলনেত্রীর বক্তব্যও শোনেননি তিনি।

কী সাফাই কল্যাণের? নেত্রীর সঙ্গে এই বচসার জল্পনা অবশ্য সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, তিনি অসুস্থ ছিলেন। সোমবার সারারাত জাগার ফলে জ্বর এসেছিল, আর সেই শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি দ্রুত মঞ্চ ছেড়েছেন। তাঁর পালটা প্রশ্ন, “বচসা হলে কি মঞ্চের সামনে গিয়ে ওভাবে বক্তৃতা করতাম?”

রাজনৈতিক মহলের মত: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙন ও ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে, একুশের মঞ্চে মমতা-কল্যাণ সংঘাত তারই প্রমাণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে এই ঘটনা যে নতুন করে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *