‘কালীঘাট সূত্রই দলটাকে ধ্বংস করবে!’ একুশের মঞ্চের পরেই বিস্ফোরক কল্যাণ, নিশানায় কে?

‘কালীঘাট সূত্রই দলটাকে ধ্বংস করবে!’ একুশের মঞ্চের পরেই বিস্ফোরক কল্যাণ, নিশানায় কে?

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দলের নয়া সূচনার বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই সুর কাটল দলের অন্দরেই। বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে আয়োজিত একুশের সমাবেশের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো বোমা ফাটালেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় দলেরই একাংশ এবং তথাকথিত ‘কালীঘাট সূত্র’। কল্যাণের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।

ঠিক কী নিয়ে ক্ষুব্ধ কল্যাণ?

দিল্লি পৌঁছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজকাল ডট ইন-কে জানিয়েছেন, দলের ভিতরের খবর অন্য কারও মাধ্যমে বাইরে আসাতেই তিনি ক্ষুব্ধ। তাঁর সাফ কথা, “কারা যে মমতাদির কান ভাঙায়, আমি জানি না। এতে দলের ক্ষতি হয়। এভাবেই ক্ষতি হয় দলের।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় কল্যাণের বিস্ফোরক পোস্টের মূল বিষয়:

  • মঞ্চের অভিজ্ঞতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় কল্যাণ জানিয়েছেন, কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী বক্তাদের তালিকায় সৌগত রায় ছাড়া আর কোনও সাংসদের নাম ছিল না। কিন্তু তালিকায় থাকা দুই বক্তা উপস্থিত না থাকায় তাঁকেই ভাষণ শুরু করতে হয়।
  • ভাষণে বাধা: কল্যাণের দাবি, তিনি যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে আসেন এবং পাঁচ মিনিট সময় নেন। ফলে তাঁকে ভাষণ থামাতে হয়। একইভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার পরও তাঁকে ভাষণ থামাতে হয়েছিল। পরে দিদির অনুমতি নিয়েই তিনি ফের বক্তব্য রাখেন।
  • নেতাদের ‘ভয়’ নিয়ে তোপ: পোস্টে তিনি আরও দাবি করেছেন, গত দুই মাস ভয়ের কারণে দলের কোনও বক্তাই জেলা সফরে যাননি। অথচ কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তিনি নিজে বহু জেলায় ঘুরেছেন।
  • ‘কালীঘাট সূত্র’-কে নিশানা: তাঁর বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে কল্যাণ লেখেন, “কালীঘাটের এই সূত্রগুলোই দলটাকে ধ্বংস করে দেবে।”

কল্যাণের এই ‘কালীঘাট সূত্র’ বলতে ঠিক কাদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। নিশানায় কি তবে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর ঘনিষ্ঠরা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *