ফেসবুক লাইভে ‘খুনি’ অপবাদ! মদন মিত্রকে ১০ কোটি টাকার আইনি নোটিশ ধরালেন অভিষেক

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেলাগাম মন্তব্যের জেরে এবার আইনি গেরোয় মদন মিত্র। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফেসবুক লাইভে ‘অপরাধী ও খুনি’ বলায় তাঁকে ১০ কোটি টাকার মানহানির নোটিশ পাঠানো হলো। অভিষেকের আইনজীবী শ্রবণা সেনগুপ্ত ইমেইল ও স্পিড পোস্টের মাধ্যমে এই কড়া নোটিশ পাঠিয়েছেন।
ঠিক কী অভিযোগ অভিষেকের?
- ভিত্তিহীন অপবাদ: আইনি নোটিশে জানানো হয়েছে, গত ১৯ জুলাই রাত ৯:৪০ নাগাদ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ করছিলেন মদন মিত্র। লাইভের ৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের মাথায় তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অপরাধী ও খুনি’ বলে আক্রমণ করেন। সুপারি কিলার দিয়ে মানুষ খুনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি অভিষেকের।
- নেপথ্যে গভীর চক্রান্ত: লাইভ ভিডিওর শেষে মদন মিত্রকে ক্যামেরার পিছনের কাউকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ‘এনিথিং মোর?’ (আর কিছু?)। এই সূত্র ধরেই নোটিশে দাবি করা হয়েছে, এই আক্রমণ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এর পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা ও সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে।
কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে নোটিশে? আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুটি স্পষ্ট শর্ত পালনের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মদন মিত্রকে: ১. নিঃশর্ত ক্ষমা: লিখিত বিবৃতি ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অভিষেকের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ২. ১০ কোটির ক্ষতিপূরণ: রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্মানহানির জন্য ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই শর্ত মানা না হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ক্ষতিপূরণের টাকা কোথায় যাবে? নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া এই ১০ কোটি টাকা একটি নির্দিষ্ট ট্রাস্টে জমা করা হবে। সেই অর্থ দিয়ে দলত্যাগী নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানো হবে এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।