ওষুধে ২০০% শুল্ক বসাচ্ছেন ট্রাম্প! ভারতের জন্য মোক্ষম সুযোগ, কীভাবে?

কানাডার উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর এবার জেনেরিক ওষুধের (Generic Medicines) বাজারে নজর দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেনেরিক ওষুধের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ঘোষণা করেছেন তিনি। এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে আর্থিক অস্থিরতা চলছে, তার মধ্যে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তবে আপাতদৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য চিন্তার কারণ মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি আদতে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর জন্য এক বিরাট সুযোগ!
কী ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, জেনেরিক ওষুধের ওপর একধাক্কায় ২০০ শতাংশ কর বসানো হবে না। বরং এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ব্র্যান্ডেড ওষুধের নীতিতে কোনো বদল আসছে না।
একনজরে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি:
| সময়কাল | শুল্কের পরিমাণ |
| প্রথম ২ বছর (১ অগাস্ট থেকে) | ০% (সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত) |
| ২ বছর পর (পরবর্তী ১ বছরের জন্য) | ১০০% |
| তার পরবর্তী সময় থেকে | ২০০% |
ভারতের জন্য এটি কেন মোক্ষম সুযোগ?
ভারতকে বলা হয় ‘বিশ্বের ঔষধালয়’। আমেরিকার ওষুধের বাজারে ভারতের আধিপত্য বিশাল।
- আমেরিকায় ভারতীয় ওষুধের চাহিদা: আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, সেদেশে বিক্রি হওয়া ওষুধের ৯০ শতাংশেরও বেশি হলো জেনেরিক। আর আমেরিকায় ব্যবহৃত প্রতি পাঁচটি জেনেরিক ওষুধের মধ্যে একটি যায় ভারত থেকে।
- বিপুল রফতানি: গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালে আমেরিকায় ৯.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জেনেরিক ওষুধ রফতানি করেছে ভারত।
- ২ বছরের ‘গোল্ডেন পিরিয়ড’: ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় আগামী ২ বছর আমেরিকায় ওষুধ রফতানিতে কোনো শুল্কই দিতে হবে না ভারতকে। অর্থাৎ, তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং রফতানি আরও বাড়বে।
ভবিষ্যতের ব্লু-প্রিন্ট
আগামী দুই বছর জিরো ট্যারিফ বা শূন্য শুল্কের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কো ম্পা নিগুলো নিজেদের রফতানি বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে পারবে। শুধু তাই নয়, ২০০ শতাংশ শুল্ক চালুর আগেই এই ২ বছরের মধ্যে কো ম্পা নিগুলো আমেরিকায় নিজেদের উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে বা স্থানীয় মার্কিন সংস্থাগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে। ফলে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য আক্ষরিক অর্থেই ‘শাপে বর’ হতে চলেছে।