NEET বিতর্কে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিস্ফোরক ইঙ্গিত!

সাতচল্লিশের পর থেকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্যতম আলোচিত NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (CJP) টানা ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে পদত্যাগ করেই তিনি ক্ষান্ত হননি; বরং তাঁর বিদায়ী বার্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত ও বিস্ফোরক প্রশ্ন, যা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
পদত্যাগপত্রে কী উল্লেখ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান?
নিজের পদত্যাগের ঘোষণা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে দেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি এবং দেশের যুবসমাজকে নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগের কথা স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন তিনি।
তিনি লেখেন, দেশের যুব প্রজন্মের শক্তিকে কোনোভাবেই বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে চান না তিনি। ভারত-বিরোধী শক্তিগুলি যেন যন্তর-মন্তর বা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অশান্তি পাকাতে না পারে, সে বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। দেশের অখণ্ডতা ও ঐক্য সবসময় বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন
দেশের তরুণ প্রজন্মকে ‘প্রিয় যুবসাথী’ সম্বোধন করে তিনি জানান, গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম তাঁর মনকে গভীরভাবে ভারাক্রান্ত করেছে। দেশের যুবসমাজের সমস্ত ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশা এবং তাঁদের অনুভূতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ করাই তাঁদের পবিত্র নৈতিক দায়িত্ব। একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশসেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য তাঁর প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
কিরেন রিজিজুর প্রতিক্রিয়া
শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগ এবং তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তার পরেই মুখ খুলেছেন মোদী মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাজের প্রশংসা করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, একজন সত্যিকারের নেতার মতোই দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর এই নিরলস জনসেবার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান রিজিজু। লাগাতার ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রবীণ কোনো মন্ত্রীর এই পদত্যাগ এবং বিদায়বেলায় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে এমন মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।