দেশে ফের বাড়ছে কোভিডের চোখরাঙানি, কাদের বিপদ সবচেয়ে বেশি? সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

ভারতে ফের একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি কিছু মৃত্যুর খবরও সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আতঙ্কিত না হয়ে এখন থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
কাদের রয়েছে কোভিডের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
বিশিষ্ট পালমোনোলজিস্ট ডা. সন্দীপ জৈনের মতে, যাঁদের শরীরে ইতিমধ্যেই নানা জটিল রোগ বাসা বেঁধে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
- কোমর্বিডিটি বা জটিল রোগ: সিওপিডি, অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা এবং ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) কম থাকে। ফলে তাঁদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।
- বয়স্ক ব্যক্তিরা: বয়স্ক মানুষদেরও এই সময়ে বিশেষ সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে মনে রাখা দরকার, শুধু জটিল রোগী বা প্রবীণরাই নন, যে কেউ এই ভাইরাসের শিকার হতে পারেন। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সকলেরই সচেতন থাকা জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে কী কী সাবধানতা নেওয়া উচিত?
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা সেই পুরোনো এবং পরীক্ষিত নিয়মগুলিই মেনে চলার কথা বলেছেন:
- মাস্ক ব্যবহার: জনবহুল ও ভিড়ভাট্টা এলাকায় অবশ্যই মাস্ক পরুন।
- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: নিয়মিত সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে এবং প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।
- ভিড় এড়িয়ে চলা: যথাসম্ভব ভিড় জায়গা এড়িয়ে চলুন।
- আইসোলেশন: পরিবারের কারও মধ্যে সর্দি, কাশি বা ফ্লু-এর মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত অন্যদের থেকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত সাধারণ ফ্লুর মতোই উপসর্গ প্রকাশ পায়। জ্বর, সর্দি ও কাশির পাশাপাশি যদি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
সাধারণ জ্বরের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশমতো প্যারাসিটামল খেলেই সাধারণত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, অতিরিক্ত ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তবে শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নির্দিষ্ট চিকিৎসা শুরু করতে হবে।