“তাঁর যাত্রা ছাত্রকল্যাণেরই সাক্ষ্য বহন করে”, পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় সরকারের প্রথম প্রতিক্রিয়া

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পর শনিবার প্রথমবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পুরো রাজনৈতিক জীবনকে জনসেবা এবং ছাত্রকল্যাণের প্রতি আজীবন উৎসর্গীকৃত এক অনন্য নিদর্শন বলে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ একটি পোস্টে রিজিজু লিখেছেন, “প্রকৃত নেতৃত্বের পরিমাপ করা হয় কাজের ভিত্তিতে। ধর্মেন্দ্র প্রধানজির কর্মজীবন জনসেবা ও ছাত্রকল্যাণের প্রতি আজীবন নিবেদিত থাকার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতির কথা স্মরণ করে রিজিজু জানান, তিনি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর নিষ্ঠা ও একাগ্রতা অত্যন্ত কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর কথায়, “ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে লক্ষ লক্ষ তরুণ শিক্ষার্থীকে রাখতে তিনি যেভাবে আন্তরিক নিষ্ঠা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব পালনে যে অধ্যবসায় প্রয়োজন, তা তিনি সাহসিকতা ও সুনির্দিষ্ট দূরদর্শিতার সঙ্গেই বজায় রেখেছিলেন।”
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রিজিজু তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে আরও লেখেন, “আপনার নিরলস সেবা, সংস্কারের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং শক্তিশালী ভারত গঠনে অবদানের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আগামী দিনেও একই দৃঢ়তা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আপনি দেশের সেবা করে যাবেন, এই শুভকামনা রইল!”
পদত্যাগের নেপথ্য কারণ: দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলন এবং NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে শনিবার শেষ পর্যন্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি স্পষ্ট জানান যে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত কোনও মর্যাদার লড়াই ছিল না, বরং গত ১০ দিনের ঘটনাবলি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। প্রধান বলেন, “NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের নৈতিক দায় আমি প্রথম দিন থেকেই স্বীকার করেছি।” তিনি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র আন্দোলনকে যাতে কোনও দেশবিরোধী শক্তি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেই সুনিশ্চিত করতেই তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নরেন্দ্র মোদী সরকারের তৃতীয় মেয়াদে কোনও প্রবীণ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে লাগাতার গণ-আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের মুখে এই ধরনের পদত্যাগের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল মন্ত্রীর অপসারণ। শেষ পর্যন্ত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে তৃতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগেই ‘এক্স’ হ্যান্ডলে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর আগে CJP নেতারা আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনওরকম আপোস বা দরকষাকষি করা হবে না।