“দেশবাসীর ঐক্য ও পরীক্ষার্থীদের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত,” ইস্তফাপত্রে বিস্ফোরক দাবি ধর্মেন্দ্র প্রধানের

দেশজুড়ে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষা নিয়ে তৈরি হওয়া চরম বিতর্ক এবং দেশব্যাপী চলা লাগাতার বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দীর্ঘ দিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলন ও তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি।
নিজের ইস্তফাপত্রে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, “যন্তর-মন্তর এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হওয়া বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ যাতে কোনও দেশবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য বজায় থাকে এবং পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনও আইনি জটিলতায় পড়ে নষ্ট না হয়, সেই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।”
ইস্তফাপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও উল্লেখ করেন যে, ৩ মে ২০২৬-এর নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার ঠিক পরেই সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় তার আয়োজন করা হয়। এমনকি আগামী বছর থেকে পরীক্ষাটিকে সম্পূর্ণ কম্পিউটার নির্ভর বা সিবিটি (CBT) পদ্ধতিতে রূপান্তর করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই সরকার সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ইস্তফাপত্রের অন্য অংশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী জানান, গত ১০ দিনের ঘটনাবলীতে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত। তাঁর মতে, প্রথম দিন থেকেই তিনি ঘটনার সম্পূর্ণ নৈতিক দায় স্বীকার করেছিলেন এবং কোনও ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র হাতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেননি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দায়িত্বশীল পদে আসীন কিছু ব্যক্তিও পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে গেছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীদের লাগাতার ধর্না ও দেশজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ যখন চরমে পৌঁছায়, তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের যুবসমাজকে যাতে কোনও বিভ্রান্তিকর চক্রের মুখে পড়তে না হয়, সেই সংকল্প নিয়েই নিজের পদত্যাগকে জাতীয় স্বার্থ এবং দেশবিরোধী শক্তির চক্রান্ত রুখে দেওয়ার ঢাল হিসেবে তুলে ধরেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।