সাংবাদিকদের উপর হামলা: রাজ্যে প্রথমবার প্রয়োগ হতে চলেছে ‘গুণ্ডা দমন আইন’, কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর!

কলকাতা: NEET প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে কলকাতায় আয়োজিত একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজ্যে প্রথমবার সদ্য প্রণীত ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬’ বা ‘গুণ্ডা আইন’-এর আওতায় কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শুক্রবারের এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ জন উপদ্রবকারীকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা NEET প্রতিবাদের দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই। NEET প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল।
বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে কিছু দুষ্কৃতী বিক্ষোভের মাঝে জুতো ও জলের বোতল ছুড়তে শুরু করে এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়। পুলিশকে বারবার উস্কানি দিয়ে সংঘর্ষে জড়ানোর চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদ করার অধিকার সবারই রয়েছে, তবে প্রতিবাদের আড়ালে হিংসা ছড়ানো বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়ার কারণে পুলিশকে আগেই সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবারের এই সহিংস ঘটনায় গুরুতর আহত ছয় সাংবাদিককে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন ‘গুণ্ডা আইন’-এর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। চিহ্নিত ৭০ জনের মধ্যে রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভীর ও নিজাম এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামালের মতো কয়েকজনের নামও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।