২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিরাট অ্যাকশন! সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় পুলিশি জালে ১১, গ্রেপ্তার মূল চক্রীও

২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিরাট অ্যাকশন! সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় পুলিশি জালে ১১, গ্রেপ্তার মূল চক্রীও

প্রশ্নপত্র ফাঁস-কাণ্ডের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে হওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কঠোর পদক্ষেপ করল পুলিশ। গত শুক্রবারের ওই হিংসাত্মক ঘটনার পরেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশের পরই আসরে নামে পুলিশ এবং মাত্র একদিনের ব্যবধানে মোট ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ধৃতদের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী নেই, সকলেই বহিরাগত দুষ্কৃতী।

ভিনরাজ্যে পালানোর চেষ্টা, জালে মাস্টারমাইন্ডরা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দু’জন গা ঢাকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভিনরাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডাল স্টেশন বা তার আশপাশের এলাকা থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়।

পুলিশের জালে পড়া ১১ জন অভিযুক্ত ও তাদের এলাকার তালিকা:

  • ইরফান খুরশেদ (জোড়াসাঁকো)
  • এরশাদ আলি ওরফে সাজিদ (পাটুয়ার বাগান লেন) *ম্মদ মঈনুদ্দিন (তিলজলা)
  • মহম্মদ আলমগীর ওরফে রাজু (জোড়াসাঁকো)
  • ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী (জোড়াসাঁকো)
  • খালিদ রেজা ওরফে রিংকু (জোড়াসাঁকো)
  • জমীর আহমেদ ওরফে মিনকু (বেনিয়াপুকুর)
  • মহসিন খান (বেক বাগান)
  • দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (কড়েয়া) *ম্মদ আজাদ (গার্ডেনরিচ)
  • মহম্মদ আফরোজ (মেটিয়াবুরুজ)

তদন্তে জানা গেছে, ভিডিও ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখে মহম্মদ আফরোজকে চিহ্নিত করে পুলিশ, যে অণ্ডাল হয়ে ভিনরাজ্যে পালানোর চেষ্টা করছিল। তার সঙ্গেই ধরা পড়ে গার্ডেনরিচের বাসিন্দা মহম্মদ আজাদ।

ঠিক কী ঘটেছিল শুক্রবার?

গত শুক্রবার নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস-কাণ্ডের প্রতিবাদে কলকাতায় একটি মিছিলের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং কিছু বামপন্থী সংগঠন। অভিযোগ, সেই প্রতিবাদ মিছিল থেকেই আচমকা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, জুতো ও জলের বোতল ছোড়া হয়। এর জেরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।

এই বিশৃঙ্খলার মাঝে চরম হেনস্থার শিকার হন কর্মরত সাংবাদিকরা। বহিরাগতদের হামলায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর জখম হন এবং তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে আহত সাংবাদিকদের দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি

হাসপাতাল থেকেই কড়া ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলতেন, শুক্রবার সব ছাড় আছে। সেই শুক্রবারের লোকেরাই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের চিহ্নিত করেছি। ওদের সঙ্গে নিটের কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবারিরা চিহ্নিত হয়েছে। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। এদের কী করতে হয়, সেটা আমি জানি!”

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শান্তিভঙ্গ ও পরিকল্পিত হিংসা ছড়াতেই এই বহিরাগতদের ব্যবহার করা হয়েছিল। ধৃতদের জেরা করে এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে অন্য কোনো বড় মাথা বা মদতদাতা রয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *