‘খুব আবেগপ্রবণ, অনুকরণপ্রিয় জেন জি!’ বর্তমানের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য RSS প্রধান মোহন ভাগবতের

‘খুব আবেগপ্রবণ, অনুকরণপ্রিয় জেন জি!’ বর্তমানের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য RSS প্রধান মোহন ভাগবতের

বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণী তথা ‘জেন জি’ (Gen Z) প্রজন্মকে একহাত নিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত। রবিবার ‘সমসাময়িক মাতৃত্ব’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, আজকের প্রজন্ম অতিরিক্ত অনুকরণপ্রিয় এবং আবেগপ্রবণ। ঠান্ডা মাথায় যেকোনো বিষয়ের বিচার-বিশ্লেষণ করার প্রবণতাও এদের মধ্যে যথেষ্ট কম।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে জেন জি প্রজন্মের তীব্র আন্দোলন এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঠিক পরের দিন মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অভিভাবক ও সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতি নিয়ে বার্তা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে আরএসএস প্রধান বলেন, নতুন প্রজন্মের জীবনযাত্রা নিয়ে বাবা-মায়েদের চিন্তা থাকা স্বাভাবিক। তবে পরবর্তী প্রজন্মকে যা শেখাতে চান, তা আগে অভিভাবকদের নিজেদের জীবনে পালন করে দেখাতে হবে। তাঁর স্পষ্ট কথা, সমাজে যে পরিবর্তন দেখতে চান, আগে নিজে সেই পরিবর্তন হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কমান এবং মোবাইল ব্যবহারে শৃঙ্খলা মেনে চলুন। আমরা সবসময় সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকি, অথচ ভারতীয় সংস্কৃতিতে সমাজই প্রথম স্থানে, সরকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

বাচ্চাদের হাতে ছোট থেকেই মোবাইল তুলে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভাগবত। তিনি জানান, অভিভাবকরা নিজেরাই যখন মোবাইলে আসক্ত, তখন শিশুদের শৃঙ্খলার পাঠ দিয়ে লাভ নেই। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাচ্চা কান্নাকাটি করলেই মায়েরা তার হাতে মোবাইল গুঁজে দিচ্ছেন। তাই সন্তানদের সঠিক নিয়মানুবর্তিতা শেখানোর আগে অভিভাবকদের নিজেদের ফোন ব্যবহারে সংযত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

বিয়ে বনাম লিভ-ইন সম্পর্ক এবং আধুনিকতা

বিয়ে এবং লিভ-ইন সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, বিয়ে হলো এমন এক নিয়ম বা শৃঙ্খলা যা মানুষের মনে ধর্মের বোধ জাগায়। এর বিকল্প হিসেবে আধুনিকতার নামে লিভ-ইন সম্পর্ককে যে তুলে ধরা হচ্ছে, তার পরিণতি অত্যন্ত উদ্বেগের। আজকের দিনে মানুষ কোনো দায়িত্ব নিতে রাজি নয়, কেবল আনন্দ চায়। যখন ইচ্ছে একসঙ্গে থাকা এবং যখন ইচ্ছে আলাদা হয়ে যাওয়ার এই প্রবণতার ভয়াবহ পরিণতি চারপাশে তাকালেই পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যায়।

তবে এর পাশাপাশি আধুনিকতাকেও সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে বদলানো যে ভারতীয় ঐতিহ্যেরই মূল অঙ্গ, সে কথাও মনে করিয়ে দেন ভাগবত। এছাড়া এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) সম্প্রদায় প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, তাঁরাও আমাদের সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং তাঁদের কোনোভাবেই ঘৃণা করা উচিত নয়।

বক্তব্যের শেষে ব্রিটিশ আমলের প্রসঙ্গ টেনে মোহন ভাগবত বলেন, ব্রিটিশরা আমাদের মনে এই ধারণা গভীরভাবে গেঁথে দিয়েছিল যে ভারতের অতীত মানেই তা মূল্যহীন। অথচ বর্তমান পশ্চিমী দেশগুলি আজ আসাম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নানা জটিল সমস্যার মুখে পড়ছে, যে ভুল পথ একসময় ভারতও অন্ধের মতো অনুসরণ করেছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *