করোনা আবহে চরম গাফিলতি! শত কোটি টাকা ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট ফেলে রাখা নিয়ে ক্যাগ রিপোর্টে তোলপাড়

শিক্ষা, গরু পাচার, কয়লা পাচার কিংবা রেশন থেকে আবাস— একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগের মাঝেই এবার করোনা মহামারী (Covid-19) মোকাবিলায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল ক্যাগ (CAG)-এর রিপোর্ট। সম্প্রতি বিধানসভায় পেশ হওয়া ২০২৪ সালের ওই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, করোনার মতো সংকটজনক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া শত শত কোটি টাকার তহবিল এবং পিএম কেয়ার্স (PM CARES) ও সিএসআর (CSR) ফান্ডের বহু মূল্যবান যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর রাজ্যজুড়ে অব্যবহৃত বা অচল অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।
রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, করোনা অতিমারী মোকাবিলার জন্য কেন্দ্র প্রদত্ত আর্থিক প্যাকেজের সিংহভাগ টাকাই সঠিক সময়ে খরচ করা হয়নি। এমনকী, অর্ধেকেরও বেশি অক্সিজেন প্ল্যান্ট আলোর মুখই দেখেনি। ক্যাগের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো মজবুত করতে পিএম কেয়ার্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) তহবিলের মাধ্যমে মোট ৭৫টি প্রেশার সুইং অ্যাডসর্পশন (PSA) অক্সিজেন প্ল্যান্ট বরাদ্দ করা হয়েছিল।
কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খতিয়ে দেখে জানা যায়, ওই ৭৫টির মধ্যে মাত্র ৩২টি প্ল্যান্ট কার্যকর বা চালু করা সম্ভব হয়েছিল। বাকি ৪৩টি প্ল্যান্ট (যার মধ্যে পিএম কেয়ার্সের ২৩টি এবং সিএসআর ফান্ডের ২০টি) হয় পুরোপুরি অচল পড়ে ছিল, অথবা কোনো কাজেই লাগেনি।
ক্যাগের বিশেষ অডিটে আরও উঠে এসেছে, একাধিক সরকারি হাসপাতালে পিএম কেয়ার্সের পাঠানো অতি-প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও দিনের পর দিন ডাস্টবিনের মতো ফেলে রাখা হয়েছিল। অডিট রিপোর্ট জানাচ্ছে, কেন্দ্র ‘ইমার্জেন্সি কোভিড রেসপন্স প্যাকেজ-২’ (ECRP-II)-এর অধীনে পশ্চিমবঙ্গকে যে জরুরি তহবিল দিয়েছিল, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত তার প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ ৬৫৯.২৮ কোটি টাকাই অলস ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। পাশাপাশি, কোভিডের ‘আনটাইড ফান্ড’-এর ৪৬২.০৫ কোটি টাকাও খরচ করা হয়নি।
যে সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অক্সিজেনের তীব্র হাহাকার ও ভেন্টিলেটর শয্যার অভাবে সাধারণ মানুষ ধুঁকছিল, ঠিক সেই চরম সংকটময় মুহূর্তে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল ও জীবনদায়ী সরঞ্জাম বছরের পর বছর ফেলে রাখার মতো এই ঘটনায় তৎকালীন স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ক্যাগ রিপোর্ট।