মাত্র ১১ নম্বরের দূরত্বই কেড়ে নিল প্রাণ! NEET-এ ব্যর্থ হয়ে আত্মঘাতী কৃষকের মেধাবী মেয়ে

মাত্র ১১ নম্বরের দূরত্বই কেড়ে নিল প্রাণ! NEET-এ ব্যর্থ হয়ে আত্মঘাতী কৃষকের মেধাবী মেয়ে

NEET-UG পরীক্ষায় যোগ্যতার সীমারেখা বা কাট-অফ পেরোতে না পারার তীব্র হতাশায় প্রাণ হারালেন আরও এক তরুণী। মহারাষ্ট্রের অহল্যানগর জেলার করজত তালুকের জলালপুর গ্রামের বাসিন্দা ১৯ বছরের অঙ্কিতা সুরেশ সাঙ্গলে নিজের বাড়িতেই আত্মঘাতী হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বাড়ির একটি ঘরে অঙ্কিতাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁর মা। সেই সময় তাঁর বাবা ও দাদা পন্ধরপুরে ছিলেন। খবর পেয়ে করজত থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মর্মান্তিক সুইসাইড নোট

ঘটনাস্থল থেকে মারাঠি ভাষায় লেখা একটি আবেগঘন সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই চিঠিতে পরিবারের উদ্দেশে অঙ্কিতা লিখেছেন, তাঁরা তাঁকে অসীম ভালোবাসা ও সমর্থন জুগিয়েছেন এবং সর্বস্ব দিয়ে NEET-এর প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করেছেন। কিন্তু তাঁদের একটি স্বপ্নও তিনি শেষ পর্যন্ত পূরণ করতে পারেননি।

মাকে নিজের সবচেয়ে বড় ভরসা এবং দাদাকে বাবা-মায়ের থেকেও বেশি স্নেহশীল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্টভাবে লিখে গিয়েছেন, তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য পরিবারের কেউ দায়ী নন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁর জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার ব্যর্থতাই তাঁকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছিল। একই সঙ্গে, বাবা-মায়ের দেখাশোনা করার সমস্ত দায়িত্ব তিনি তাঁর দাদার হাতে সঁপে দিয়ে গেছেন।

মাত্র ১১ নম্বরের ব্যবধান

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অঙ্কিতা গত ৩ মে অনুষ্ঠিত NEET-UG পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ফল নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদীও ছিলেন। কিন্তু প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় তাঁকে গত ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষায় বসতে হয়।

গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত সেই পুনঃপরীক্ষার ফলে তিনি পান ১৬৬ নম্বর। কিন্তু তাঁর সংরক্ষিত বিভাগের কাট-অফ ছিল ১৭৭। অর্থাৎ, মাত্র ১১ নম্বরের ব্যবধানে তাঁর সুযোগ হাতছাড়া হয়। অঙ্কিতার বাবা পেশায় একজন কৃষক। মেয়ের আকস্মিক এই প্রয়াণে শোকে পাথর হয়ে গেছে গোটা পরিবার। শনিবার রাতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, NEET-UG পরীক্ষা বাতিল এবং পুনঃপরীক্ষার মধ্যবর্তী এই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মাঝে দেশজুড়ে একাধিক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। অঙ্কিতার এই প্রয়াণ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগকে আরও একধাপ বাড়িয়ে তুলল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *