১ টেরাবাইট সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস ডার্ক ওয়েবে! চাঞ্চল্যকর সাইবার হানার মুখে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা

আবার এক বড়সড় সাইবার বিপর্যয়! রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অফ বরোদার সিস্টেমে হানা দিয়ে প্রায় এক টেরাবাইট সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে সমাজমাধ্যমে। অভিযোগ, ব্যাঙ্কের সুরক্ষাবলয় ভেঙে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য ডার্ক ওয়েবে আপলোড করে দিয়েছে জালিয়াতরা। ফাঁস হওয়া তথ্যের কিছু নমুনা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এই দাবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ঠিক কী দাবি করা হচ্ছে?
ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়া ওই বিপুল তথ্যের মধ্যে ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট ব্যাঙ্কিংয়ের বিশদ বিবরণ রয়েছে বলে দাবি হ্যাকারের। এর মধ্যে গ্রাহকদের নাম, সংবেদনশীল তথ্য এবং ভারতজুড়ে বিভিন্ন শাখার ঋণের বিশদ বিবরণও নাকি ফাঁস হয়ে গিয়েছে। প্রায় এক টেরাবাইট ডেটার মধ্যে রয়েছে সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্টের রেকর্ড, ঋণের নথি, নেটব্যাঙ্কিং ব্যবহারকারীদের তথ্য, এনআরআই ও কর্পোরেট ব্যাঙ্কিংয়ের তথ্য এবং এটিএম সংক্রান্ত বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নথি।
গত শনিবার, ২৫ জুলাই ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘র্যানসমঅয়্যার ডট লাইভ’ প্রথম এই তথ্যফাঁসের বিষয়টি শনাক্ত করে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও ডিজিটাল পেমেন্ট সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা শ্রীকান্ত লক্ষ্মণন এক্স হ্যান্ডলে সেই নথিগুলির লিঙ্ক শেয়ার করার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং দেশজুড়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। শ্রীকান্তের প্রাথমিক যাচাইয়ে অডিট রিপোর্ট, ঋণ মূল্যায়নের নথি, ভিজিল্যান্স তদন্তের ফাইল এবং বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের আবেদনপত্রও পাওয়া গেছে।
ব্যাঙ্কের সাফাই ও তদন্ত
তথ্যসুরক্ষা নিয়ে যখন চারদিকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তখন এই জলঘোলা থামাতে আসরে নামে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা। কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো ব্যাঙ্ককর্মীর ইমেল হ্যাকিংয়ের ফলেই এই অননুমোদিত তথ্য ফাঁস হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, ব্যাঙ্কের মূল বা কোর ব্যাঙ্কিং সিস্টেম (Core Banking System) সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। ঘটনাটি নজরে আসামাত্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি ফরেন্সিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
কারা এই হামলার নেপথ্যে?
এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট হ্যাকার বা হ্যাকিং গোষ্ঠী প্রকাশ্যে এই সাইবার হানার দায় স্বীকার করেনি। তবে বিশেষজ্ঞ শ্রীকান্তের ধারণা, এর পেছনে ‘ট্রিপলএক্স’ (TripleX) নামের কোনো নতুন হ্যাকার গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মে মাসেই ইন্দোনেশিয়ার একটি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সাইবার হানা চালিয়ে প্রায় দুই টেরাবাইট তথ্য চুরির অভিযোগ উঠেছিল এই ‘ট্রিপলএক্স’ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই।