“নেতারা নাচতে ব্যস্ত, আন্দোলনকারীরা অভুক্ত!” সিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর বিস্ফোরক অভিযোগ

নয়াদিল্লি, ২৮ জুলাই ২০২৬: নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে বড় সাফল্য মিললেও বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরেই এই সংগঠনটির ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইউটিউবার মেঘনাদ এস সিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের একাংশকে সম্পূর্ণ সহায়হীন অবস্থায় ফেলে রেখেই উৎসবে মেতেছিলেন সিজেপি নেতারা। এক দিকে যখন নেতৃত্ব নাচ-গানে আনন্দ উদযাপনে ব্যস্ত, অন্য দিকে তখন বহু আন্দোলনকারী দিল্লিতে খাবার ও থাকার জায়গা না পেয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েন।
মেঘনাদের বক্তব্য, এই স্বেচ্ছাসেবকেরাই দীর্ঘ এক মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আন্দোলনকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু আন্দোলন সফল হওয়ার পর তাঁদের পাশে কাউকেই পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে তিনি এবং আরও কয়েকজন নিজেদের পকেটের টাকায় বহু আন্দোলনকারীকে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ভাইরাল ভিডিও
মূলত একটি ভিডিওকে ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। যেখানে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসকে একটি ঘরের মধ্যে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে আনন্দে নাচতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন দেওয়া হয়েছিল ‘রেজিগনেশন পার্টি’। অন্য কয়েকটি ভিডিওতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও একই অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মেঘনাদ। তিনি কমেন্টে লেখেন, “ভোর চারটের সময় এই ভিডিও দেখলাম। আমি ও আরও কয়েকজন গত দু’দিন ধরে নিজেদের টাকায় অনাহারে থাকা সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করছি। এই ভিডিও দেখার পর আর চুপ থাকতে পারলাম না।”
পাশাপাশি, জুনেদ নামের এক ব্যক্তির অভিযোগ ঘিরেও অস্বস্তিতে পড়েছে সিজেপি। যন্তর মন্তরে যিনি প্রায় এক মাস ধরে আন্দোলনকারীদের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন, লাইভ হিন্দুস্তান ইউটিউব চ্যানেলের এক প্রতিবেদনে তিনি অভিযোগ করেন যে আন্দোলন শেষ হওয়ার পর সিজেপি নেতারা তাঁর সঙ্গে সৌজন্যমূলক দেখাও করেননি।
কী বলছে সিজেপি?
সমালোচনার মুখে চুপ করে থাকেনি সংগঠনটি। ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেন, বিষয়টিকে অহেতুক বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, অনুষ্ঠানটি কোনও ফাইভ-স্টার হোটেলের ছিল না; বরং ৩৭ দিন রাস্তায় কাটানো ১৫০-২০০ জন পরিশ্রমী স্বেচ্ছাসেবককে ধন্যবাদ জানাতে এবং তাঁদের সম্মান জানাতেই ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
সৌরভ দাসের আরও দাবি, “আমরা প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে মেঝেতে বসে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের নাচের দৃশ্যটুকুই শুধু ভাইরাল হয়েছে।”