“ওরা বলল থামুন, আলোচনায় বসি”: যুদ্ধবিরতির মাঝেই বড় দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

“ওরা বলল থামুন, আলোচনায় বসি”: যুদ্ধবিরতির মাঝেই বড় দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমার অনেক ধৈর্য। দেখা যাক কী হয়।” তবে নির্দিষ্ট কোনো সমাধানসূত্র না মিললে তেহরানের বিরুদ্ধে ফের কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

এক নজরে মূল বিষয়গুলি:

  • কূটনৈতিক সমাধানের আশা: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • ইরানের বার্তা: ট্রাম্পের দাবি, ইরানই প্রথম যোগাযোগ করে উত্তেজনা কমানো ও আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছে।
  • হামলা বন্ধ: গত শুক্রবার ট্রাম্প ইরানে এয়ার স্ট্রাইক বন্ধের ঘোষণা করার পর টানা তিন-চার দিন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বড় কোনো হামলার খবর নেই।
  • সামরিক হুঁশিয়ারি অটুট: স্থায়ী কোনো চুক্তি না হলে ফের কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি বহাল রেখেছেন ট্রাম্প।
  • তেলের বাজারে স্বস্তি: সংঘাত কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চার শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৭ ডলারে নেমে এসেছে।

গত শুক্রবার হঠাৎই ইরানে আকস্মিক এয়ার স্ট্রাইক বা বিমান হামলা বন্ধের ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পর চার দিন কেটে গেলেও নতুন করে কোনো বড় হামলার খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি পাল্টা হামলা থেকে বিরত রয়েছে ইরানও। ট্রাম্পের দাবি, এই শান্ত পরিবেশের পরেই তেহরান স্বয়ং আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁর ভাষায়, “ওরা বলল, দয়া করে থামুন। আসুন আলোচনায় বসি।” তবে এর পাশাপাশি তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল—যদি কোনো ফলপ্রসূ চুক্তি না হয়, তবে আমেরিকা আগের কঠোর অবস্থানে ফিরে যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী সুরে জানান, “আমার অনেক ধৈর্য রয়েছে, দেখা যাক কী হয়। আমার মনে হচ্ছে ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

হরমুজ প্রণালীই উত্তেজনার মূল কেন্দ্রবিন্দু

হরমুজ প্রণালী নিয়ে পূর্ববর্তী কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরেই নতুন করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালাতে শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা পশ্চিম এশিয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই সাময়িক বিরতির মূল লক্ষ্য হলো আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আমেরিকার সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ বা সরাসরি আলোচনা শুরু হয়নি; যা চলছে, তার পুরোটাই মধ্যস্থতাকারীদের মারফত বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে।

উত্তেজনা কমতেই নিম্নমুখী তেলের বাজার

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাময়িক শান্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চার শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৭ ডলারে নেমে এসেছে।

তবে স্থায়ী সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ইরানের দাবি, এই জলপথে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে শেষ কথা বলবে তারাই। নির্ধারিত রুট না মানার অভিযোগে ইতিমধ্যে কয়েকটি জাহাজ আটকানোর কথাও জানিয়েছে তেহরান। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল বজায় রাখতে ওমানের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা চালাচ্ছে তারা, যে প্রক্রিয়ায় আমেরিকা নেই। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের অভিযোগ, “গত কয়েক বছরে আমেরিকার একের পর এক অবাঞ্ছিত পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের সেই সেতু আর অবশিষ্ট নেই।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *