দ্বাদশ শ্রেণি পাস ভুয়ো ডাক্তারের কারবার! রোগী সেজে অভিযানেই ফাঁস বেআইনি গর্ভপাত চক্র

গুরগাঁওয়ের ঘাটা গ্রামের বানজারা মার্কেটে গড়ে ওঠা একটি ছোট ক্লিনিক থেকে ফাঁস হল এক চাঞ্চল্যকর অবৈধ গর্ভপাত চক্র। মাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করে গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে দিব্যি চিকিৎসকের চেম্বার চালাচ্ছিলেন কমল মাহাতো নামের এক যুবক। সোমবার স্বাস্থ্য দপ্তরের ডিকয় অপারেশন বা বিশেষ ফাঁদের জেরে হাতেনাতে ধরা পড়েন ওই ভুয়ো চিকিৎসক।
কীভাবে ফাঁদ পাতা হয়েছিল? বানজারা মার্কেটের ‘কমল ক্লিনিক’-এ বেআইনি ভাবে গর্ভপাত করানোর কাজ চলছে— এমন গোপন খবর এসে পৌঁছয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে। এর পরেই শুরু হয় বিশেষ অপারেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দু’মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে রোগী সাজিয়ে পাঠানো হয় ওই ক্লিনিকে এবং তাঁর হাতে দেওয়া হয় একটি বিশেষ চিহ্ন দেওয়া নোট।
অভিযোগ, ক্লিনিকে গিয়ে গর্ভপাতের কথা বলতেই সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান ‘ডাক্তার’ কমল মাহাতো। এরপর নির্দিষ্ট ফি নিয়ে মহিলার হাতে একটি মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি (এমটিপি) কিট তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ওষুধ খাওয়ার নিয়মও বুঝিয়ে দেন তিনি।
হাতেনাতে পাকড়াও এবং উদ্ধার সামগ্রী ‘ডাক্তারবাবুর’ কাছ থেকে ওষুধ পাওয়ার পরেই বাইরে অপেক্ষারত স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী ও পুলিশকে ইশারা করেন ওই মহিলা। সেই ইশারা পেতেই পুলিশ ও স্বাস্থ্য আধিকারিকরা ক্লিনিকে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন। কমলের ড্রয়ার থেকে উদ্ধার হয় সেই বিশেষ চিহ্ন দেওয়া টাকা এবং আরও একটি এমটিপি কিট।
এরপর পুরো ক্লিনিক তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অ্যালোপ্যাথি ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, কাশির সিরাপ, স্যালাইন, ব্লাড প্রেশার মাপার যন্ত্র, স্টেথোস্কোপ এবং গ্লুকোমিটারের মতো বহু চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের কাছে এই সমস্ত ওষুধ বা সরঞ্জামের সপক্ষে কোনও বৈধ নথিপত্র ছিল না।
জেরায় প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের জেরায় কমল স্বীকার করে নেয় যে, সে কোনও চিকিৎসক নয়। তার পড়াশোনা কেবল দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। তার কাছে কোনও স্বীকৃত মেডিক্যাল ডিগ্রি, চিকিৎসার লাইসেন্স বা আইনসম্মতভাবে গর্ভপাত করানোর কোনও অনুমতিপত্র ছিল না।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের বার্তা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি (এমটিপি) আইন, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন আইন, ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
হরিয়ানা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ চিকিৎসক, বেআইনি লিঙ্গ নির্ধারণ এবং গর্ভপাত চক্রের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।