ছাত্রস্বার্থে ঐতিহাসিক উদ্যোগ! প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে লোকসভায় আজ পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক

কোটি কোটি পরীক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা সংঘাতের অবসান ঘটালেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতার ফলেই অবশেষে কাটল সংসদের অচলাবস্থা। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধ সংক্রান্ত ‘পাবলিক একজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ নিয়ে মঙ্গলবার থেকেই সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় সম্মত হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল।
সোমবার বিরোধীদের হট্টগোল ও স্লোগানবাজির মধ্যেই লোকসভায় বিলটি পেশ করেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সোচ্চার থাকা বিরোধীদের উদ্দেশ্যে স্পিকার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, শুধু হট্টগোল বা স্লোগান দিয়ে কোনও সমাধান মিলবে না। কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার স্বার্থে সমস্ত দলেরই এই আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত। এমনকি বিরোধীদের দেওয়া গঠনমূলক পরামর্শ বিলে যুক্ত করারও আশ্বাস দেয় সরকার।
সোমবার সংসদের নিয়ম মেনে বিল পেশের আগে বিরোধী শিবিরের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়, মণীশ তিওয়ারি ও এন কে প্রেমচন্দ্রনদের বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানান স্পিকার। তবে তাঁরা সেই সময় বক্তব্য না রাখায় জিতেন্দ্র সিং বিলটি উপস্থাপন করেন। এরপর দুপুরের দিকে সভা মুলতুবি করা হয়।
দুপুর দুটোয় অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে স্পিকার জানান, বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য আপাতত ছয় ঘণ্টা সময় ধার্য করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মতপার্থক্য ঘোচাতে তিন ঘণ্টার একটি বিশেষ সময়ও বেঁধে দেন তিনি।
এদিকে বিকেল পাঁচটায় অধিবেশন ফের শুরু হলে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গত ২০ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের কথিত অত্যাচারের অভিযোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে সরব হন বিরোধীরা। তুমুল হট্টগোলের জেরে মঙ্গলবার সকাল এগারোটা পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করা হয়।
তবে দিনভর নানা টানাপোড়েন চললেও স্পিকারের উদ্যোগেই অবশেষে জট কেটেছে। মঙ্গলবার থেকেই কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর নজর রয়েছে লোকসভার দিকে, যেখানে দীর্ঘ আলোচনার পর এই বহুচর্চিত সংশোধনী বিলটি পাস হতে পারে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলন তুলে নেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি। সরকারের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তোলার পর সোমবার গভীর রাতেই দলটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল।
গভীর রাতের একটি ভিডিও বার্তায় সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তির কপি তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং আটক ও গ্রেফতার হওয়া সমস্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।