অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোভিড টেস্টে দুর্নীতির অভিযোগ, বিষ্ণুপুর থানায় এফআইআর দায়েরের আবেদন

ক্রমশ বাড়ছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক চাপ। এবার কোভিডের সময়কার টেস্ট ও বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রতারণা এবং দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলো।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডায়মন্ড হারবার লোকসভার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে কোভিড ‘মেগা টেস্ট ড্রাইভ’ এবং ‘ডক্টরস অন হুইলস’ প্রকল্পের নামে বড়সড় প্রতারণা করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় আশাকর্মীদের দিয়ে ভুয়া কোভিড পরীক্ষা করানো হয়। এছাড়া ভুল ও মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, মহামারী ছড়ানো এবং কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয় করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।
সোমবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তৎকালীন জেলাশাসক, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন মহকুমা ও ব্লকের একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। মোট ২৫ জন এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করে এফআইআর রুজু করার আবেদন জানানো হয়েছে। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি সিট (SIT) গঠনের দাবিও তোলা হয়েছে।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস প্রশ্ন তোলেন, “ডক্টরস অন হুইলস এবং এত করোনা পরীক্ষার কিট কোথা থেকে এল? যদি সরকারি সহযোগিতা থেকেই থাকে, তবে একজন সাংসদের জন্য এই বিপুল পরিমাণ করোনা পরীক্ষার কিট কীভাবে সরকার থেকে অনুমোদিত হলো? পরীক্ষার জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা কে দিল বা কোথা থেকেই বা এল, তারও তদন্ত প্রয়োজন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি একদিনে ৫৩ হাজার করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া তথ্য দিয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, প্রশিক্ষিত নন এমন আশাকর্মীদের দিয়ে করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছিল, যা আইসিএমআর (ICMR)-এর নির্দেশিকা লঙ্ঘনের সামিল। ইচ্ছাকৃতভাবে পজিটিভ রোগীদের সংখ্যা কম দেখানো এবং পজিটিভ রোগীদের নেগেটিভ রিপোর্ট দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। বিজেপি নেতার দাবি, এই ভুল রিপোর্টের কারণেই অনেক রোগীকে ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।