বদল হলো নবম শ্রেণির সাইকেল প্রকল্পের নাম, এবার থেকে রাজ্যে চালু হচ্ছে ‘সারথি’!

বদল হলো নবম শ্রেণির সাইকেল প্রকল্পের নাম, এবার থেকে রাজ্যে চালু হচ্ছে ‘সারথি’!

রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় ছাত্রছাত্রী কল্যাণমূলক প্রকল্পে এল এক বড় পরিবর্তন। এতদিন নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের বিনামূল্যে সাইকেল বিতরণ প্রকল্পটি যে নামে পরিচিত ছিল, তার অবসান ঘটিয়ে নবান্নের নির্দেশে এবার থেকে এর নাম রাখা হলো ‘সারথি’ (SARATHI)। নামের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি সাইকেল বিতরণ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধ করতে এবং স্বচ্ছতা আনতে আনা হয়েছে কঠোর নজরদারি ও একগুচ্ছ নতুন নিয়ম।

নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, নতুন ‘সারথি’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাইকেল বিতরণের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে স্কুল স্তরে পড়ুয়াদের তথ্য যাচাইয়ের কাজও।

‘সারথি’ প্রকল্পের প্রধান নিয়ম ও নির্দেশিকা:

  • বাধ্যতামূলক পোর্টাল ভেরিফিকেশন: সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকাকে ডেডিকেটেড ‘SARATHI’ পোর্টালে লগ-ইন করে নবম শ্রেণির প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর প্রোফাইল বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করতে হবে।
  • তথ্য সংশোধনের কড়া নিয়ম: নির্দেশিকায় পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পোর্টালে শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংশোধনের সুযোগ মিলবে। অন্য কোনও তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা নতুন করে এন্ট্রি করতে হবে।
  • ডবল বেনিফিট চেক: সংশ্লিষ্ট ছাত্র বা ছাত্রী এর আগে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে সাইকেল বা সমতুল্য সুবিধা পেয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে আপডেট করতে হবে।
  • ফাইনাল সাবমিশন: সমস্ত তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাই করার পর স্কুল কর্তৃপক্ষকে পোর্টালে ‘Submit’ এবং পরবর্তীতে ‘Finalize’ অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। একবার তথ্য ‘Finalize’ হয়ে গেলে তা আর কোনোভাবেই সংশোধন করা সম্ভব হবে না।
  • বহুস্তরীয় ভ্যালিডেশন: স্কুলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করা তথ্য পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট SI, ASI এবং DI স্তরে কঠোরভাবে যাচাই হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
  • ডেলিভারি এবং অডিট: ভ্যালিডেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর ‘ডিসট্রিবিউশন মাস্টার রোল’ তৈরি করা হবে। এরপর ব্লক ও পুরসভা স্তরে সাইকেল বিতরণের ডেলিভারি পয়েন্ট নির্ধারিত হবে। সাইকেল বিতরণের পর অবিলম্বে সমস্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারি অডিটের জন্য সমস্ত নথির হার্ড কপিও স্কুলগুলিকে নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।

নবান্ন ও শিক্ষা মহলের জোরালো ধারণা, নতুন এই পোর্টাল এবং কঠোর নিয়মের বেড়াজালে সাইকেল বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। জেলার প্রতিটি স্কুলকে ইতিমধ্যে এই নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *