স্বাস্থ্যসাথীর পরে নতুন উদ্যোগ, বছরে ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসায় আসছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’
পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকলেও যাঁরা আর্থসামাজিক কারণে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য একটি নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ (MMSBY)-র আওতায় যোগ্য পরিবারগুলি প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
তবে এই প্রকল্পের সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি হলে, অন্য কোনো রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প কিংবা ইএসআই-এর আওতায় কর্মীরা বা পেনশনভোগীরা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা (যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের অন্তর্ভুক্ত) এই নতুন প্রকল্পের আওতা থেকে বাদ যাবেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিএএ বা এসআইআর সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে কোনো আবেদন বিচারাধীন থাকলেও, অন্যান্য যোগ্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুযোগ পাবেন। তবে নামের তালিকা থেকে বাদ গেলে এই যোজনা বা আয়ুষ্মান ভারত—কোনোটিরই সুবিধা মিলবে না।
নতুন এই প্রকল্পে স্বাস্থ্যসাথীর মতোই প্রতি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্লোটার ভিত্তিক ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে। তবে স্বাস্থ্যসাথীতে শুধুমাত্র পরিবারের মহিলার নামে কার্ড ইস্যু করার নিয়ম থাকলেও, এই প্রকল্পে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নামে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আলাদা কার্ড দেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই এবং পুরোনো রোগও এই বিমার আওতাভুক্ত থাকবে। যদিও চিকিৎসার খরচ আগে বহন করে পরে তা রিইম্বার্সমেন্ট বা ফেরতের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
চিকিৎসা নেওয়ার সময় আধারভিত্তিক প্রমাণীকরণ এবং আভা (ABHA) কার্ডের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারতের নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী এবং সেই তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলোতেই এই চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এই প্রকল্পের নোডাল সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এবং এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে স্টেট হেলথ এজেন্সির ওপর। গত ২২ জুলাই রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২৫ জুলাই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্বাস্থ্য দপ্তর।