‘রাজনীতি পথ দেখাবে, অভিজ্ঞতা বইয়ের পাতায়’: বন্দিদশার স্মৃতিচারণায় অসিত মজুমদার

‘রাজনীতি পথ দেখাবে, অভিজ্ঞতা বইয়ের পাতায়’: বন্দিদশার স্মৃতিচারণায় অসিত মজুমদার

জেলে বসেই জেলা সভাপতি হওয়ার বিরল নজির গড়েছিলেন। এবার সেই বন্দিদশার রোমহর্ষক ও কঠিন অভিজ্ঞতাকে মলাটবন্দী করে ফেললেন হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। বুধবার হুগলি প্রেস ক্লাবের সভাঘরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হল তাঁর প্রথম বই— ‘কারাগারের অন্তরালে ২০ দিন’।

বইটির মূল বিষয়বস্তু হলো, কারাজীবনের সেই কুড়িটি দিন কীভাবে কেটেছিল এবং সেসময়ের মানসিক ও শারীরিক অভিজ্ঞতা কেমন ছিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু আন্দোলন ও সংগ্রাম করলেও এর আগে কখনও তাঁকে পুলিশের খাতায় নাম লেখাতে বা জেলে যেতে হয়নি বলেই জানান এই প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ মে, যখন চুঁচুড়া থানা অসিত মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে। টানা প্রায় কুড়ি দিন হুগলি জেলে বন্দি থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে অসিতবাবু বলেন, “বহুদিন রাজনীতি করছি। অতীতেও বিরোধী রাজনীতি করেছি, কিন্তু কখনও জেলে যেতে হয়নি। এবার আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে যেতে হলো। পরে আবার আমার বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো মামলা জুড়ে দেওয়া হলো।” কারাগারের দিনগুলো অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল বলেও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। তবে বাংলার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু গ্রন্থ রচনা করলেও, তাঁর এই নতুন বইয়ের বিষয়ে নেত্রীকে আগাম কিছু জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।

বইটির প্রচ্ছদ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফেসবুকে প্রচ্ছদ আপলোড করার পর থেকেই তা হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিউ ছাড়িয়ে যায় সাড়ে তিন লাখ। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি আগামী দিনে আরও বই লেখার প্রবল ইচ্ছে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অসিত মজুমদারের স্পষ্ট কথা, “সক্রিয় রাজনীতি পথেই চলবে। পথই পথ দেখাবে, আর সেই অভিজ্ঞতাগুলোই বইয়ের পাতায় লেখা থাকবে।”

প্রাক্তন বিধায়কের এই জেল-অভিজ্ঞতা নিয়ে বই প্রকাশকে অবশ্য মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না বিরোধীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন চুঁচুড়ার বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল সরকার যা চুরি-জোচ্চুরি করেছে এবং তাদের নেতারা যা বলছেন, তা নিয়ে বই লেখাই যায়। ওনার এখন আর কোনও কাজ নেই, তাই বই লিখছেন, খুব ভালো কথা।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *