বদ্রীনাথে প্রণামী চুরি: পুলিশের জেরায় অপরাধ স্বীকার বরখাস্ত পিএ-র, ঘর থেকে উদ্ধার রূপার মূর্তি ও নেপালি নোট!

অযোধ্যার রাম মন্দিরের পর এবার উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত বদ্রীনাথ ধামেও সামনে এলো প্রণামী ও অনুদানের টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (BKTC) বরখাস্ত হওয়া পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (PA) প্রমোদ নটিয়াল পুলিশি জেরার মুখে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন।
চার দিনের পুলিশি রিমান্ডে থাকাকালীন চামোলী পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) প্রমোদের বদ্রীনাথের সরকারি বাসভবনে অভিযান চালায়। বদ্রীনাথ থানার এসএইচও (SHO) মহাদেব উনিয়াল জানিয়েছেন, ধৃতকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার ঘর থেকে প্রচুর পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জিনিসের মধ্যে রয়েছে বান্ডিল বান্ডিল নেপালি মুদ্রা, বিপুল নগদ টাকা, প্রচুর রূপার কয়েন, ছোট রূপার মূর্তি এবং কচ্ছপ আকৃতির রূপার স্মারক। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, উদ্ধার হওয়া এই সমস্ত সামগ্রী মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর অংশ ছিল কি না।
কীভাবে চলত এই কারচুপি? গত ১২ জুলাই গ্রেফতার হওয়া প্রমোদ নটিয়ালের মূল কাজ ছিল মন্দিরের ভিআইপি প্রোটোকল সামলানো এবং ভক্তদের দান করা প্রণামী গোনার তদারকি করা। অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ভিআইপি দর্শনের ফি ও ভক্তদের অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করছিলেন। জেরায় অপরাধ স্বীকার করলেও এই চক্রে অন্য কোনো প্রভাবশালী বা সহকর্মী জড়িত আছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তদন্তের স্বার্থে সিট প্রমোদকে সঙ্গে নিয়ে বিকেটিসির কার্যালয়, দেরাদুনের বাসভবন এবং বদ্রীনাথের আবাসনগুলোতে যৌথ তল্লাশি চালিয়েছে। একই সাথে তার নামে থাকা একাধিক সম্পত্তির নথিপত্রও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে, যাতে আয়ের মূল উৎসের হিসাব মেলানো যায়।
বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত তিনটি ভিন্ন স্তরে এগোচ্ছে—
- বিকেটিসি (BKTC): তাদের গঠিত ৪ সদস্যের অভ্যন্তরীণ কমিটি ইতিমধ্যে চেয়ারম্যানের কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
- পুলিশের সিট (SIT): অপরাধের আইনি ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত চালাচ্ছে।
- উত্তরাখণ্ড সরকার: ঘটনার মূল গভীরে পৌঁছাতে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন কমিটি গঠন করেছে।
রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অভিযুক্ত প্রমোদ নটিয়ালকে পুনরায় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। পরপর দুটি দেশের প্রধান তীর্থক্ষেত্রে এমন অনুদান তছরুপের খবর প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ পুণ্যার্থীরা।