UPI নাকি ক্যাশ: পকেটের টাকা বাঁচাতে কোনটি সেরা? আসল অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন মহিলা

UPI নাকি ক্যাশ: পকেটের টাকা বাঁচাতে কোনটি সেরা? আসল অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন মহিলা

আজকাল আমাদের পকেটে নগদ টাকা থাকুক বা না থাকুক, স্মার্টফোনে ইউপিআই (UPI) থাকা চাই-ই চাই। চা-কফি থেকে শুরু করে বাজারের বড় কেনাকাটা—সবই সারছি এক ক্লিকে। কিন্তু এই ডিজিটাল পেমেন্টের অভ্যাসে কি আমাদের অজান্তেই পকেটের জল টানছে? সম্প্রতি এমনই এক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের অনন্য অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন দিল্লির এক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাদাফ।

সাদাফ জানান, টানা তিন মাস তিনি ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই ব্যবহারে লাগাম টেনেছিলেন। বেশিরভাগ কেনাকাটাই করেছিলেন নগদ টাকায় (Cash)। আর তাতেই তাঁর টাকা খরচের মানসিকতায় এসেছে এক আমূল পরিবর্তন।

কেন ইউপিআই-তে বাড়ছে খরচ?

সাদাফের মতে, ইউপিআই-এর মাধ্যমে ছোট ছোট পেমেন্ট খুব দ্রুত হয়ে যায়। কফি খাওয়া, টুকটাক স্ন্যাকস বা অনলাইনের ছোটখাটো কেনাকাটায় কত টাকা চলে যাচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। এভাবে দিনে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা খরচ হয়ে গেলেও ডিজিটালি তা খুব বড় অঙ্ক মনে হয় না। ফলে পকেটের ব্যালেন্স খালি হতে সময় লাগে না।

নগদ টাকার ‘সাইকোলজিক্যাল’ প্রভাব

নগদে পেমেন্ট করার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সাদাফ বলেন, “যখন পকেট থেকে ৫০০ টাকার একটি আসল নোট বার করে দেওয়া হয়, তখন স্পষ্ট বোঝা যায় কত টাকা বেরিয়ে গেল এবং হাতে আর কতটা অবশিষ্ট রইল।” এই দৃশ্যমান অনুভূতিই মানুষকে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে বাধ্য করে।

সাদাফের ‘৮০-২০’ ফর্মুলা

তবে আজকের দিনে পুরোপুরি ডিজিটাল পেমেন্ট বন্ধ করা যে সম্ভব নয়, তাও মেনে নিয়েছেন তিনি। খুচরো টাকার সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিনি এক মাঝামাঝি পথ বা ‘স্মার্ট বাজেট’ বেছে নিয়েছেন:

  • ৮০% খরচ: নগদ টাকায় করার চেষ্টা করেন (যাতে খরচে নিয়ন্ত্রণ থাকে)।
  • ২০% খরচ: ইউপিআই-এর মাধ্যমে জরুরি বা ছোটখাটো পেমেন্টে ব্যবহার করেন।

সাদাফের এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। নেটিজেনদের একাংশ তাঁর এই ‘ক্যাশ থেরাপি’-র সঙ্গে সহমত পোষণ করে জানিয়েছেন যে, পকেটে ক্যাশ থাকলে সত্যিই অনাবশ্যক কেনাকাটায় লাগাম দেওয়া সম্ভব। তবে অন্য একাংশের মতে, আজকের আধুনিক জীবনে কেবল নগদ টাকার ওপর নির্ভর করে চলা বেশ কঠিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *