শুভেন্দুর পাশাপাশি ‘হানিট্র্যাপ’ ছক! বাংলায় জইশ জঙ্গি-জালের ছায়ায় তাজ্জব STF

কলকাতা: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেট করার নেপথ্যে থাকা ধৃত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সরাসরি পাকিস্তান যোগ নিশ্চিত করল রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (STF)। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক সব তথ্য প্রকাশ করেন এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা।
আইজি জানান, ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকেই হামিমকে ট্র্যাক করা শুরু হয়। সে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত ‘রানা’, ‘হুসেন’ ও ‘আবিদ’ নামের বেশ কয়েকটি হ্যান্ডেলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল। এই পুরো চক্রটি মূলতঃ পরিচালনা করছিল পাক গ্যাংস্টার ‘শেহজাদ ভাট্টি গ্যাং’।
দিল্লিতে ছদ্মবেশে হামলার নির্দেশ
তদন্তে জানা গেছে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি মুভমেন্ট ট্র্যাক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল হামিমকে। এমনকি দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশ সেজে গিয়ে বড়সড় নাশকতার ছক কষারও নির্দেশ পেয়েছিল সে। এসটিএফ সূত্রে খবর, এদের সঙ্গে সরাসরি পাক গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর যোগাযোগ রয়েছে। আগামী ১৫ আগস্ট বা স্বাধীনতা দিবসে কোনো বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিধায়ক-পুত্রকে ‘হানিট্র্যাপ’ ও অপহরণের ছক
তদন্তে নেমে এসটিএফ আরও জানতে পেরেছে, লক্ষ্য শুধু বিরোধী দলনেতাই ছিলেন না। হাওড়া উত্তরের বিধায়ক তথা পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইও ছিলেন জঙ্গিদের নিশানায়। পরিকল্পনা ছিল উমেশ রাইয়ের ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণ করার এবং তার মাধ্যমে রাজ্যে বড়সড় বিশৃঙ্খলা তৈরি করার।
অর্পিতার ভূমিকা ও রহস্যের জাল
এই মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হামিমের বান্ধবী ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকেও। অর্পিতা প্রায়ই হামিমের সঙ্গে দেখা করতে আসতো এবং সে-ও এই চক্রের অংশ ছিল।
তবে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি—
- বাংলা জুড়ে এই নেটওয়ার্ক ছড়াতে হামিম ও অর্পিতার সঙ্গে আর কারা জড়িত?
- এদের মূল আর্থিক উৎস কী ছিল?
বর্তমানে পালিয়ে যাওয়া বাকি সহযোগীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি ধৃত হামিম ও অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জেরা করছেন এসটিএফ আধিকারিকরা।