“কলকাতাই আমার ঘর…” রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে ফিরে কী বার্তা দিলেন নির্বাসিত তসলিমা নাসরিন?

কলকাতা: দীর্ঘ ১৯ বছরের নির্বাসন ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তিলোত্তমায় ফিরলেন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শনিবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আবেগাপ্লুত তসলিমা বলেন, “কলকাতায় ফিরে এসে মনে হচ্ছে জীবনের এমন একটি অংশে ফিরে এলাম, যা আমি এখানে ফেলে গিয়েছিলাম।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তসলিমা জানান, তাঁর এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে—”অন্যায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু চিরস্থায়ী হতে পারে না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর লড়াই বরাবরই নারীর অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়।
বক্তব্যের প্রধান দিকগুলি:
- মৌলবাদের বিরোধিতা: সব ধরনের ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তসলিমা বলেন, ইসলামী মৌলবাদকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন বলেই তিনি এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হয়েছেন।
- বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ: বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে তিনি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে ভবিষ্যতে সেখানে নারী ও সংখ্যালঘুরা মর্যাদা নিয়ে বাঁচবেন—এমন আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
- ২০০৭-এর স্মৃতি ও প্রতিবাদ: ২০০৭ সালে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ার যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে লেখিকা বলেন, “ইতিহাস মনে রাখে কে দরজা বন্ধ করেছিল আর কে খুলে দিয়েছিল।”
নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং মানবাধিকারের কথা বলাকেই তাঁর ‘অপরাধ’ হিসেবে দেখা হয়েছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন লেখিকা। তবে এবার কলকাতায় তাঁর ফেরাকে বাক্স্বাধীনতার জয় হিসেবেই দেখছেন অনুগামীরা।