নিষিদ্ধ অ্যাপে কলকাঠি, নেপথ্যে পাক যোগ! প্রভাবশালীদের ‘হানি ট্র্যাপ’ করতে কীভাবে ছক কষত অর্পিতা-হামিম?

সোশ্যাল মিডিয়ায় সামান্য আলাপ থেকে শুরু, আর সেখান থেকেই অপরাধ জগতের বিপজ্জনক জালে জড়িয়ে পড়া! ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ফটোগ্রাফির কাজের আড়ালে প্রভাবশালীদের ‘হানি ট্র্যাপ’ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল অর্পিতা সরকার ও তার সহযোগী হামিম মণ্ডলের বিরুদ্ধে। এসটিএফ (STF) সূত্রে খবর, হাওড়ার এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ছেলেকেও একই কায়দায় ফাঁসানোর ছক কষেছিল এই চক্রটি।
কীভাবে চক্রান্ত সাজাত অর্পিতা?
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেই প্রথম যোগাযোগ হয় অর্পিতা ও হামিমের। ভিভিআইপিদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অর্পিতা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ছবির কাজকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত। একবার প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে তাদের ফাঁদে ফেলে ভীতি প্রদর্শন ও ব্লেকমেইলিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ দাবি করা হতো।
নিষিদ্ধ ‘Element X’ অ্যাপে চ্যাট!
অপরাধের নীলক নকশা তৈরি এবং তথ্যের আদান-প্রদানের জন্য তারা ব্যবহার করত ভারত সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করা ‘Element X’ নামের একটি সিক্রেট মেসেজিং অ্যাপ। ভারত সরকার ২০২৩ সালেই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই অ্যাপটিসহ মোট ১৩টি মেসেজিং অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছিল। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতেই এই প্ল্যাটফর্মে যাবতীয় যোগাযোগ রাখত দুজন।
পাকিস্তানি হ্যান্ডলার ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের তথ্য
হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসটিএফ একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। জানা গেছে, হামিম নিয়মিত ‘রানা’, ‘আবির’, ‘হাবিব’ ও ‘৩৩৩’ সংকেতধারী পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। পরিচয় গোপন রাখতে তারা ব্রিটেন ও মেক্সিকোর সিম কার্ড ব্যবহার করে এনক্রিপ্টেড চ্যাটের মাধ্যমে মাদক সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।
আদালতে অর্পিতা, পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ
আদালতের নথি অনুযায়ী, অর্পিতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা, তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং কড়া UAPA (বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন)-র ১৩ ও ১৮ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে বিচারক অর্পিতা সরকারকে ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় নিয়ে এসেছে এসটিএফ।